দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় ও ডাক্তারি পরামর্শ

  আজকের আর্টিকেলে দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যাথা কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আপডেট তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হবে, শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।

দাঁতের-মাড়ি-ফোলা-ও-ব্যথা-কমানোর-উপায়

বদ অভ্যাসের জন্য মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আমাদের একটু সচেতনতা হতে হবে। এই বদ অভ্যাস ত্যাগ করে, দাঁতের প্রতি যত্নশীল হাওয়া অত্যন্ত জরুরী। নিম্নে দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা প্রতিকার সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হলো।

পেজ সূচিপত্রঃ দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যাথা কমানোর উপায় কি? সে সম্পর্কে বিশদভাবে বর্ণনা দেওয়া হল।

দাতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর জন্য অথবা দাতকে ভালো রাখার জন্য যেসব কাজ জরুরি করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে হল। প্রথমত সঠিক ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা নেওয়া। সেজন্য আপনাকে নিয়মিত যেসব কাজগুলো করতে হবে।

দাঁতকে ভালো রাখার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে কাজগুলো করলে রোগব্যাধি হবে না। সে সমস্ত কাজগুলো করা আমাদের জন্য অবশ্যই অত্যাবশ্যক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কত কিছু খাই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বা অনিয়মিত ভাবে। যেগুলো অনিয়মিত ভাবে খেয়ে থাকি, এর জন্য রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

যে সমস্ত কারণে রোগ বৃদ্ধি হতে পারে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বদ অভ্যাস  বা অনিয়মিত খাবার খাওয়া। অবাঞ্চিত খাবার দাঁতের ভিতরে লেগে থাকলে, দাঁতের মাড়ি ফোলা ব্যথা হতে পারে। তাই আপনাকে আমাকে দাঁতের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সঠিকভাবে যত্ন না দিলে, কোন এক সময় অকালে দাঁত হারিয়ে ফেলতে পারি।

দাত আমাদের শরীরের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। যদি দেহের কোন একটা অঙ্গ  অসুস্থ হয়ে যায়। ওই অঙ্গের কারনে সমস্ত শরীরে অসুস্থ মনে হয়। এর মূলে যদি মাড়ি ফোলা রোগ হয়। তাহলে তো মুখে কোন খাবার খাওয়াই যায় না। তাই দ্রুত ঘরোয়া পরিবেশে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারব। যে পদক্ষেপ গুলো নিবেন, সেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করলাম । 

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে নিয়মিত ব্রাশ করা 

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার জন্য নিয়মিত আপনাকে ব্রাশ  করতে হবে। অন্তত প্রতিদিন দিনে দুইবার ব্রাশ করা জরুরী। আমাদের যাদের দাঁতের অসুখ আগে থেকেই আছে। তাদের উচিত উন্নত মানের টুথপেস্ট ব্যবহার করা। আর সে টাকা হতে হবে ক্লোরাইডযুক্ত। এটি দাঁত কে ক্ষয় করতে রক্ষা করে। আর এটি তো আছে এনামেলক ও খনিজ জাতীয় শক্তি। জেটি দাঁত কে শক্তিশালী করে থাকে। আপনি ইলেকট্রিক ড্যাশ ব্যবহার করতে পারেন। দাঁতের মাড়ি ফোলা ও রোগব্যাধি দূর করতে দ্রুত কাজ করে।

আরো পড়ুনঃঘরোয়া উপায়ে দাঁতের রক্ত পড়া দূর করা

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে ফ্লস ব্যবহার করা

দাতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় হলো দাঁত কে ভালো রাখার জন্য প্রতিদিনে ব্রাশ করি, এরপরেও কিছু খাদ্য কোন দাঁতের মধ্যে লেগে থাকে যেখানে টুথব্রাশ পাওয়া যায় না। সেজন্য কার্যকরী সমাধান হলো এই ফ্লস করা দাঁতের মধ্যে যেন কোন জীবাণু আটকে না থাকে তার জন্য আপনাকে এই কাজটি করাই লাগবে। বা বাধ্যতামূলক হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

 দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার উপায় হল গার্গল  করা

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার উপায় হল প্রতিদিন খাওয়ার পরে গাল গোল করতে হবে। শুধু কাশি বা সদ্যের জন্য নয়। মুখের ভিতরে ভালো রাখার জন্য গার গরা করা অবশ্যই জরুরি। যখন আমরা মিষ্টি খায়, জুস  জাতীয় খাবার খায়। তখন মুখের লালার পি এইচ এ ভারসাম্যটি নষ্ট করে ফেলে। তাই গার গর করলে আবার আগের পর্যায়ে ফিরে আসে। এবং মুখের ভেতর ভালো রাখতে হলে আমলন কাটাতে হবে। আর আমরা যদি এটা না করি তাহলে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ি ফোলা হয়ে যেতে পারে।

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে হলে ভারসাম্যপূর্ণ  খাবার  খাওয়া

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাওয়া জরুরি। অনেক রোগ সৃষ্টি হয় খাবারের উপরে। খাবার যদি ভালো হয়, তাহলে আপনার মাড়ি ফোলা ও দাঁতের রোগ কম হবে। চিনি যুক্ত স্টাচির খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন। এগুলো দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। এজন্য এ খাবার পরিহার করে খাইবার যুক্ত খাবার খেতে হবে। ফাইবারের ভেতরে যেসব খাবার পরে আপেল শাকসবজি এসব খাবারগুলোকে চিবিয়ে খেতে হবে। এছাড়া দাঁতের প্রতি একটু সচেতন থাকতে হবে। আর অ্যালকোহল মুক্ত থাকতে হবে অ্যালকোহলের দাঁতের মাড়িও দাঁত ক্ষয় করে।

 খাবারের পরে মুখ কুলকুচি করুন দাঁত ও মাড়ি  ভালো  রাখুন

 দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে হলে খাওয়ার পরে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। সব সময় ব্রাশ করা জরুরী নয়। জরুরী তখনই হয় যখন খাবারের পরে। ঘুমানোর আগে ব্রাশ করতে হয়। তবে শর্করা খাবার খেলে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলার মাধ্যমে তার কণাগুলো দূর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে  মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে ভালোভাবে।

আরো পড়ুনঃদাঁতের প্রতি যত্ন নেওয়া ডাক্তারের পরামর্শ।

 দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখর উপায় ধূমপান ত্যাগ করা

আমাদের পরিবেশ হয়ে গেছে এখন রোগ ব্যাধিতে ভরা। মানুষ দেখাদেখি বদ অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। ধুমপান বা তামাক ব্যবহারকারীর প্রধান কারণ হচ্ছে দাঁতের গোড়ার মাড়ি ফোলা। ধূমপানমারের ইমিউনিটি সিস্টেমকে দুর্বল করে তোলে। এত করে তারা জীবানের সাথে লড়তে পারে না। জীবাণু নিরাময় করতে দুর্বল হয়ে যায়। আর যেভাবে হোক আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করাই লাগবে। 

দাঁতের-মাড়ি-ফোলা-ও-ব্যথা-কমানোর-উপায়

দাত মাড়ি ভালো রাখার চিকিৎসকের পরামর্শ

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার জন্য প্রতি মাসে আপনাকে একবার হলো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ব্রাশ বা ফলস করার পরেও দাঁতের মধ্যে কিছু জমে থাকতে পারে, এগুলো পেশাদার ডেন্টিস পরিষ্কার করে দিতে পারে। এর সাথে আপনার দাঁতের লক্ষণ ও কি কি অভাব রয়েছে সেগুলো চিকিৎসা নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃদাঁতের পাথরের চিকিৎসা করা।

দাত ও মাড়ি ভালো রাখার উপায় লবণ ও গরম পানি

দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া উপায় হল। লবণ ও গরম পানি ব্যবহার করা। মাড়ি ফুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে লবণ গরম পানি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এতে করে দাঁতের বিষ ব্যথা কমে যায় মাড়িফুলাও অনেক অংশে কমে যায়। বিশেষ করে যেগুলো গর্ভকালীন সময়ে যেসব খাবারগুলো খেয়ে থাকে। এবং যেসব মেয়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাদের জন্য গরম পানি ব্যবহার করা অনেক ভালো।

মাড়িফোলা ও দাঁত ভালো রাখায় স্কেলিং করা

মাড়ি ফোলা ও দাঁতের খয়রোধ করার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে স্কেলিং করা জরুরী। দাঁতের মধ্যে পাথরে থাকা ব্রাশদের দূর করার সম্ভব হয় না। তাই প্রতি মাসে স্কেলিং করতে হবে। এর মাধ্যমে দাঁতের ক্ষয় কম হয়। ফোলা ও অনেক অংশ কমে যায়। এজন্য স্কেলিং করা মাধ্যমে পাথর দূর করায় হয়।

যেসব কারণে দাঁতের মাড়ি ফোলা ও  রোগ ব্যাধি হয়ে থাকে নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা দেওয়া হল

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও রোগের কারণসমূহ

  1.  মাড়ির প্রদাহ।
  2.  পায়োরিয়া।
  3.  আক্কেল দাঁত।
  4.  দাঁতের গোড়ায় প্রদাহ।
  5.  প্রেগনেন্সির কারণে মাড়িয়ে ফুলে যাওয়া।

এছাড়া আরো অনেক কারণ রয়েছে। ভালো মানের ব্রাশ ব্যবহার না করা। রাত্রিবেলায় খাবারের পরে ব্রাশ না করা। এসব গুলো কারণেও দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়।

দাত মাড়ি ফোলার কারনে অন্যান্য রোগের আশঙ্কা।

দাঁত ও মাড়ি ফোলার যে সমস্ত ছোটখাটো কারণ গুলো আছে সেই বিষয়গুলো তো বর্ণনা করা হলো। কিন্তু এর চাইতে বড় বড় রোগের আশঙ্কা রয়েছে এটা ফোলার ভেতরে। ৩০ থেকে ৩৫টি রোগ হতে পারে দাঁত ও মাড়ি ফোলার কারনের উপায়।

 মাড়ি প্রদাহ

দাঁত নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মাড়ি প্রদাহ। মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যায়। পরক্ষনে রক্ত পড়ে। এবং আস্তে আস্তে সেখানে ইনফেকশন তৈরি হয়। আর এখানে সঠিক পরামর্শ হলো ভালো ডেন্টিস্ট এর সাথে পরামর্শ করা।

আরো পড়ুনঃ হৃদরোগের কারণসমূহ দাঁত ও মাড়ি ফোলা অন্যতম ।

 দাঁতের পাইরিয়া

 দাঁতের পাইরিয়া বলতে দাঁতের পাথর কে বুঝায়। আরে পাথর দাঁতের মধ্যে ক্ষয় সৃষ্টি করে। এখান থেকে শুরু হয় ক্ষয়। আর খয়ের পরে বেশি ব্যথা শুরু হয়। তাই এখানে ঘরোয়াও পরিবেশে চিকিৎসা না করে। সরাসরি ডেন্টিস্টের সাথে পরামর্শ করাই ভালো হবে। হৃদরোগের কারণসমূহ দাঁত ও মাড়ি ফোলা অন্যতম ।

দাঁতের-মাড়ি-ফোলা-ও-ব্যথা-কমানোর-উপায়

প্রেগনেন্সির কারণে মারি ফুলে যাওয়া

প্রেগন্যান্সির কারণে মাড়ি ফুলে যাওয়া এটি একটি অন্যতম দাঁত ব্যথার দাঁত ব্যথার কারণ। গর্ভকালীন সময়ে অনেক রকমের খাবার খেতে হয় এ করে দাঁতের সমস্যা হতে পারে। তাই প্রেগন্যান্স এর পরে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া অবশ্যই জরুরি।

 উপসংহার 

দাঁতের মাড়ি ফোলাও ব্যাথা কমানোর উপায় কি ।যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের জন্য যেকোনো রোগী ভালো হাওয়া কষ্টসাধ্য। তবে সঠিকভাবে ঘরোয়া চিকিৎসা নিলে দাঁতের ব্যাথা সহজেই ভালো করা যায়। অন্য যে কোন প্রশ্ন সম্মুখীন হলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর জরুরিভাবে দেওয়া হবে।

দাত আমাদের শরীরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই দাঁতের যত্ন নেওয়া অবশ্যই আমাদের জরুরি। এক্ষেত্রে  চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে আর কথা নয় আজকের মত এখানেই শেষ করছি আপনারা সুস্বাস্থ্য কামনা করে। আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url