শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর: সিলেট কীভাবে যাবেন-বাস ট্রেন ও সিএনজি সহজ রুট
আজকে আর্টিকেলটিতে আমরা শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট কীভাবে যাবেন-বাস ট্রেন ও সিএনজি সহজ রুট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।নিচে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে নিতে পারেন।
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেটের আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনের পর্যটনকেন্দ্র।এর মূলে আছে শ্রীপুরের ঝরনা ও চা বাগান।যা মেঘালয়ের এক লুকানো স্বর্গরাজ্য।শ্রীপুরের তামাবিল রোড সংলগ্ন এই চা বাগানটি দেখতে হাজারো পর্যটক ভিড় জমিয়ে থাকে।
পেজ সূচিপত্রঃ শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর: সিলেট কীভাবে যাবেন-বাস ট্রেন ও সিএনজি সহজ রুট সম্পর্কে জানতে পড়ুন
- শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট
- জৈন্তাপুর শ্রীপুর চা বাগানের আয়তন
- শ্রীপুর চা বাগানে যা দেখবেন
- শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণের সেরা সময় কখন
- শ্রীপুর চা বাগানে কীভাবে যাবেন
- শ্রীপুর চা বাগানে কোথায় থাকবেন
- শ্রীপুর চা বাগানে কোথায় খাবেন
- সঙ্গে যা নেবেন
- শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণে সতর্কতা
- শ্রীপুর চা বাগানের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান
- আমাদের শেষ কথা
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট
শ্রীপুর চা বাগান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি। যা মেঘালয়ের এক নৈসর্গিক স্বর্গরাজ্য। পাহাড়ের বুক চিরে বিস্তৃত সবুজের গালিচা বিছানো বিশাল চা বাগান, নিচে লালচে মাটি ও সাদা চায়ের ফুলে অপূর্ব মেলবন্ধন। সকালে শুভ্র সূর্যের কিরণ চায়ের পাতার কুয়াশায় সোনালী রং ধারণ করে, ও বিকেলে সূর্যাস্ত সেই পাতাকে গোধূলির রং পাল্টিয়ে মায়াবী ও মাধুর্য অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।
সিলেটের এই শ্রীপুর চা বাগান পাহাড়ি এলাকায় হাওয়ায় পাখির কিচিরমিচির ডাক উপভোগ করা যায়।পর্যটকগণ নিজেকে প্রকৃতির সঙ্গে ফটোগ্রাফিতে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চা শ্রমিকদের সাধারণ জীবন যাপন এবং চা তোলার প্রক্রিয়া দেখার সুবর্ণ সুযোগ হয় । স্থানীয় সাংস্কৃতিক জীবনধারা সঙ্গে পরিচিতি হওয়া যায়।
জৈন্তাপুর শ্রীপুর চা বাগানের আয়তন
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেটের সঠিক আয়তন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ একর বা ২.৪-২.৮ বর্গ কিলোমিটার। এই চা বাগানটি দর্শনার্থীদের জন্য ব্যাপকভাবে বিস্তৃত যেখানে হাঁটাহাঁটির জন্য নিরাপদ রাস্তা আছে। কিছু জায়গায় পাহাড়ি ঢাল থাকলেও এর মূল রাস্তা পর্যটকদের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়। এই শ্রীপুর চা বাগানটি মেঘালয়ের ভারত এবং বাংলাদেশ সীমানাবর্তী হওয়ায় দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেশি হয়।
শ্রীপুর চা বাগানে যা দেখবেন
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট ভ্রমণ করলে যা দেখবেন, তার সৌন্দর্যের স্পষ্টভাবে বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরা হলো।নিচে জেনে নিতে পারেন।
বিশাল সবুজ চা-বাগানের দৃশ্য
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেটের পাহাড়ের ঢালের চতুর্পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে লংচুর সবুজ চা পাতা যা বিশাল এলাকা জুড়ে দেখতে যেন সবুজ গালিচা বিছানো পর্যটকদের সাদর সম্ভাষণে আহ্বান জানাচ্ছে। এখানে আসলে ঠিক যেন দার্জিলিং এর অনুভূতি পাওয়া যায়। সকালে এবং বিকালের সৌন্দর্য মিলেমিশে এক মায়াবী দৃশ্যের চিত্র অঙ্কন করে থাকে। এজন্য এই জায়গাকে ফটো শুটের সেরা স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়।
পাহাড়ি দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক মোহময় স্বর্গ। এর চারপাশে ঢেউ খেলানো পাহাড় তার গায়ে সবুজ চা পাতার সারি দূর থেকে মনে হয় ,যেন সবুজের কার্পেট বিছানা আছে। পাহাড়ের ঢালের চা বাগান চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। বাতাসের দোল কচি চা পাতার গায়ে লেগে সুবাস ছড়িয়ে মনকে করে তোলে স্নিগ্ধ। ভোরের আলো পাহাড় গুলোকে হালকা কুয়াশা মোড়ানোকে ভেদ করে চা বাগানে রোদের ছটা পড়লে তৈরি হয় এক স্বপ্নীল দৃশ্য। এই দৃশ্য সোনালী রং ও সবুজের সঙ্গে মেলবন্ধন সৃষ্টি করে, এ জায়গাকে আরো রোমান্টিক করে তোলে।
আরো পড়ুনঃ লাক্কাতুরা চা বাগান সিলেট যাতায়াত ও খরচ তথ্য
চা উৎপাদন প্রক্রিয়া
শ্রীপুর চা বাগানে চায়ের উৎপাদন প্রক্রিয়া একটি সূক্ষ্ম কাজ। চা পাতা সংগ্রহ দুইটি কচিপাতা ও একটি কুড়ি হাত দিয়ে তুলে নিতে হয়। এতে চায়ের গুণগত মান ভালো থাকে। সাত থেকে ১০ দিন পরপর পাতা তোলা হয় কাঁচা পাতা বড় ট্রে তে রেখে জালের উপর ছড়িয়ে রাখতে হয়। পাতা থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে পাতা নরম অনমনীয় হয়, সাধক রং তৈরি প্রস্তুতি শুরু হয়।প্রায় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর রোলিং এর মাধ্যমে পাতা ভেঙ্গে ভেতরের রস বের হয়।
অক্সিডেশন প্রক্রিয়া শুরু হয় , চায়ের রং ও স্বাদ গন্ধ তৈরি হয়। তারপরে চা পাতা শুকানো হয় অক্সিডেশন বন্ধ হয় । আর্দ্রতা সম্পন্ন কমে যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ যোগ্য হয়। এখান থেকে বড় পাতা ভাঙ্গা পাতা চা ধুলো গ্রেড অনুযায়ী দাম চায়ের ও ব্যবহার ভিন্ন করা হয়। প্যাকেটিংজাত করার পরে সুবাস ও আর্দ্রতা ও চা ঠিক থাকে। বাজারজাতকরণ সহজ হয় কালো চা পণ্য অক্সিডেশন । সবুজ চায়ে অক্সিডেশন নাই । আংশিক অক্সিডেশন থাকে সাদা চা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়।
হাঁটাহাঁটির পথ
সবুজ চা বাগানের মধ্যে দিয়ে দুর্গম পথ হেঁটে যাওয়া প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নীরব সংলাপ সত্যিই অসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারী পথের দুই পাশে সারি সারি চা গাছ ঢালু বেয়ে উপরে ওঠা ।কখনো আবার নেমে যাওয়া। পায়ের নিচে লালচে মাটির সরু পথ আর উপর থেকে আকাশছোঁয়া গাছপালা নিচে ছায়া ফেলে পথটিকে আরো সুন্দর করে তোলে। হেঁটে যাওয়ার সময় কানে ভেসে আসে মর্মরিত পাতার ধ্বনি, দূরে পাখির ডাক মাঝে মধ্যে পাহাড়ি জলধারার ঝিরির শব্দ, সব মিলিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তার নিজের গল্প বলছে।
ফটোগ্রাফির আদর্শ স্থান
শ্রীপুর চা বাগান যেন প্রকৃতির নিজের হাতে সাজিয়ে রাখা জীবন্ত দৃশ্য। যার চারপাশে বিস্তৃত সবুজ চা বাগান ঢেউ খেলানো পাহাড় আর খোলা নীল আকাশ , সব মিলিয়ে প্রতিটি দিক থেকেই ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে নিখুঁত ফটোগ্রাফি। কোথাও মনে হয় হালকা সোনালী রং , আবার কোথাও মনে হয় সবুজ গাঢ় রংরং, প্রতিটি মুহূর্তই দৃশ্য বদলে দেয়, ফলে জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ছবির আকর্ষণীয় দৃশ্য ফুটিয়ে তুলে। বিকেলের সূর্য ঢলে পড়লে পাহাড়ের ঢালে দীর্ঘ ছায়া তৈরি হয় । যা ছবিতে এনে দেয় নাটকীয়তা ও গভীরতা। চা বাগানের প্রতিটি শট থেকে পাওয়া যায় , প্রকৃতির ভারসাম্য ও নান্দনিকতা। এই স্থানটি ফটোগ্রাফিদের জন্য আদর্শ গন্তব্য।
স্থানীয় জীবনধারা
এই এলাকায় স্থানীয়দের জীবনধারা খুবই সহজ সরল স্বাভাবিক এবং প্রকৃতি নির্ভর। ভোরের আলো উঠার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবন যাত্রা শুরু হয়। কেউ চা বাগানে কাজ করে আবার কেউ ঘরের নিত্য দিনের কাজ কর্ম ব্যস্ত হয়ে থাকে। প্রকৃতির ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের সময় বয়ে যাবে। সূর্য ওঠা এবং ডোবার মাঝখানে গড়ে ওঠে। জীবনের সব ব্যস্ততা ও বিশ্রাম। চা বাগান ঘিরে তাদের জীবন জীবিকা সংগ্রহ করতে হয়।নারী পুরুষের চা পাতা তোলার দক্ষতা কাঁধে ঝুড়ি ঝুলিয়ে সারি সারি চায়ের গাছের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করার দৃশ্যটি , একদিকে শ্রম অন্যদিকে জীবনের সরল সৌন্দর্যের প্রতীক।
আরো পড়ুনঃ ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া আপডেট টিকিট মূল্য সম্পর্কে জানুন
তাদের বসবাস সাধারণত টিন মাটির ও ছোট কাঠ/বোর্ড দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়। চারপাশে সবুজ গাছপালা উপরে খোলা আকাশ খাদ্যাভ্যাসের সহজ সরলতা।ঐতিহ্যবাহী আচার অনুষ্ঠান যেখানে সম্প্রদায় বোধ পারস্পারিকতা সহমর্মিতা স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে।
শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণের সেরা সময় কখন
শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণের সবচাইতে উপযুক্ত সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ মাস এ সময় আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকে পাহাড় চা বাগানের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। হাটা ফটোগ্রাফি ও প্রকৃতি উপভোগের জন্য আদর্শ সময়। কুয়াশা মাখা সকাল বেলা ও সোনালী বিকেল বনকে করে তোলে আরো মনোমুগ্ধকর। অন্যান্য মৌসুমে ভ্রমণ করা কষ্টদায়ক, এ সময় আমরা যাওয়াকে সমর্থন করি না।
সকাল সাতটা থেকে দশটার মধ্যে নরম আলু ও কুয়াশা ফটোগ্রাফির জন্য সেরা সময়
বিকেল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যাস্ত আলো ছায়ার খেলা মনোরম পরিবেশ পাওয়া যায়।
শ্রীপুর চা বাগানে কীভাবে যাবেন
শ্রীপুর চা বাগান সিলেট জেলার জন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত। শহর থেকে সড়কপথে সহজে এখানে পৌঁছানো যায়। আমরা নিচে এর সুস্পষ্ট পথের তালিকা তুলে ধরলাম। চলুন জেনে নেওয়া যাক
ঢাকা থেকে শ্রীপুর চা বাগান
ঢাকা থেকে বিমান পথে সিলেট বিমানবন্দর পৌঁছাতে পারবেন, যেতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট সিলেট এয়ারপোর্টে এসে নেমে যাবেন। এখান থেকে শ্রীপুর চা বাগান সিএনজি কিংবা অটো রিস্কা দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন।
ট্রেনযোগে যাতায়াত
ঢাকা থেকে সিলেট রাতের ট্রেন সুবিধাজনক। এছাড়াও আপনি চাইলে দিনেও যেতে পারেন । সিলেট স্টেশন নেমে শ্রীপুর চা বাগান পর্যন্ত বাস কিংবা সিএনজিতে যাওয়া যায়।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় ঢাকা থেকে | পৌঁছানোর সময় সিলেট | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | সকাল 6:20 মিনিট | দুপুর 1:00 | মঙ্গলবার |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস | সকাল 11: 15 মিনিট | সন্ধ্যা 7:00 | নাই |
| উপবন এক্সপ্রেস | দুপুর 2:55 মিনিট | রাত 9: 30 | শুক্রবার |
| কালনি এক্সপ্রেস | রাত8:30 মিনিট | ভোর 5:00 | বুধবার |
ভাড়ার তালিকা
শোভন= ৩৭৫ টাকা
শোভন চেয়ার= ৪৫০ টাকা
প্রথম সিট= ৬৮০ টাকা।
স্নিগ্ধা= ৯৮০ টাকা
এসি সিট= ১১০০ টাকা
এসি বার্থ= ১২৮৮ টাকা
রেলওয়ের আপডেট নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে
ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে ৭ থেকে ৯ ঘন্টা স্টপেজ অনুযায়ী উপবন এক্সপ্রেস ৮ থেকে ৯ ঘন্টা সময় লাগে। বাদবাকি যে ট্রেনগুলো চলাচল করে, এগুলো ৭ ঘন্টা থেকে ৭:৩০ ঘন্টা মিনিট সময় লাগে।
বাসযোগে
ঢাকা থেকে সরাসরি শ্রীপুর চা-বাগানের জন্য কোন বাস নেই আপনাকে ভ্রমণটি দুই ধাপে ভাগ করে যেতে হবে। চলুন নিচে বাসযোগ্য কীভাবে যাওয়া যায় তার কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা যাক
বাসের নাম
হানিফ এন্টারপ্রাইজ
শ্যামলী পরিবহন
এনা পরিবহন
গ্রীন লাইন পরিবহন
মামুন পরিবহন
বাসে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সময় লাগে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা
নন এসি বাসের ভাড়া ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা এসি বাসের ভাড়া ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা।
দিনভর এ রুটে বাস চলাচল করে থাকে
সিলেট থেকে লোকাল বাস অথবা মিনিবাসে জৈন্তাপুর থেকে শ্রীপুর যেতে পারবেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা যেতে সময় লাগবে , ভাড়া ৮০ থেকে ১৫০ টাকা নিবে। সিএনজি রিজার্ভ নিলে দেড় ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টার মধ্যে পৌছে দিবে, ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। তবে ভাড়া মিটিয়ে উঠবেন।
আরো দেখুনঃ কুয়েতে হোটেলের ভিসার বেতন কত কাজের ধরন ও সুযোগ সুবিধা
সংক্ষেপে রুটের বর্ণনা দেয়া হলো
ঢাকা-সিলেট বাস স্ট্যান্ড-সিলেট-জৈন্তাপুর হয়ে-শ্রীপুর।
শ্রীপুর চা বাগানে কোথায় থাকবেন
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট অঞ্চলের আশেপাশে কটেজ হোটেল গেস্ট হাউসে অথবা হোমেস্টে থাকেন। এছাড়া আপনি চাইলে সিলেট শহরে থাকতে পারেন সিলেট শহরের মধ্যে অন্যতম যেগুলো হোটেল আছে তার নাম গুলো তুলে ধরা হলো
সিলেট রিজেন্সি হোটেল ৩০০০ থেকে ৫ হাজার থ্রি ফোর স্টার হোটেল
রেডিসন বুলু ফোরস্টার হোটেল ৪৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা
হোটেল সিলেট টু থেকে থ্রি স্টার ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা
এ ছাড়া জৈন্তাপুর শহরে থাকতে পারেন, এখানে হোমেস্ট ও ছোট গেস্ট হাউস আছে। ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা রাত ভাড়া নিবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছে থাকার অভিজ্ঞতা পাবেন। স্থানীয়দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।
শ্রীপুর চা বাগানে কোথায় খাবেন
শ্রীপুর চা বাগান একটি প্রাকৃতিক ও পাহাড়ি পরিবেশ যেখানে বড় হোটেল বা রেস্টুরেন্ট নেই। তবে স্থানীয় খাবারের সুবিধা হোটেল গেস্ট হাউসে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
হোমেস্টে দুপুর এবং রাতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিবেলা খাবারের ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগতে পারে।
খাবারের তালিকার মধ্যে থাকবে
ভাত
ডাল
সবজি
দেশি মাছের ঝোল ও মাছ
মুরগি
দেশীয় বন মোরগ
এছাড়াও সিলেট শহরে যে সমস্ত রেস্টুরেন্ট গুলো আছে, সেগুলোতেও খেতে পারেন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের খাবার পাবেন দেশীও খাবার পাওয়া যায় ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতিবেলা স্থানীয় খাবার খেতে হলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে হবে।
এছাড়া ছোট ছোট হোটেল আছে, সেখানেও খেতে পারেন। খাবারের মধ্যে থাকছে স্ন্যাকস চা স্থানীয় ফল ও পানি চিপসহ বিস্কিট পঞ্চাশ থেকে দেড়শ টাকা হয়ে যাবে।
সঙ্গে যা নেবেন
শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণে সঙ্গে যা নিবেন তার একটি তালিকা তুলে ধরা হলো
পরিচ্ছন্ন পোশাক
ক্যাপ বা টুপি
রেনকোট বা ছাতা
সানগ্লাস
মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক
ক্যামেরা
পরিচয়পত্র ফটোকপি
নগদ টাকা
নিরাপদ পানি
ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ
মশা নিরোধক স্প্রে ইত্যাদি।
শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণে সতর্কতা
পিচ্ছিল রাস্তা দেখেশুনে হাঁটতে হবে
চরম ঝড়ো বাতাস কুয়াশার মধ্যে নিজেকে সংযত রাখতে হবে
রাত্রে যাত্রা করা যাবে না
স্থানীয়দের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে
ময়লা করা যাবে না
বাস কিংবা সিএনজিতে ওঠার সময় যাচাই-বাছাই করে উঠবেন
অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবেন।
শ্রীপুর চা বাগানের নিকটবর্ত্তী দর্শনীয় স্থান
শ্রীপুর চা বাগান ভ্রমণে সিলেট অঞ্চলে আরো অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে আপনি চাইলে একই খরচে দেখে নিতে পারেন
জৈন্তাপুর বাজার ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে এখানে বাজারের সেরা চাপাবেন ফলমূল ও হস্তশিল্প সামগ্রী পাওয়া যায়
সুনামগঞ্জ পাহাড়ি এলাকা দূরত্ব ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পাহাড় সবুজের সমাহার ছোট বড় ঝর্ণা
ছোট ঝরনা ও ঝিরি ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চা বাগান সংলগ্ন
স্থানীয় ছোট গ্রাম এখানে দেশীয় খাবারের স্বাদ পাওয়া যায়
এছাড়াও আপনি চাইলে সিলেটের জাফলং সাদা পাথর
হযরতঃ শাহজালাল ও শাহ পরানের মাজার ঘুরে আসতে পারেন।
আরো জানুনঃ অনলাইন ব্যবসার সুবিধা ও অসুবিধা: নতুনদের জন্য পূর্ণ গাইড ২০২৭
আমাদের শেষ কথা
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে বেশি করে শেয়ার করে দিবেন। এরকম আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি লাইক দিয়ে শেয়ার করুন। কারণ প্রতিদিনই আমরা এরকম নতুন আর্টিকেল, আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে থাকি।
শ্রীপুর চা বাগান জৈন্তাপুর সিলেট কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন, টোটালে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন । আপনাদের আত্মীয়-স্বজনের নিকট আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকের মত এই পর্যন্ত, আপনাদের শারীরিক সুস্থতা কামনা করে শেষ করলাম।

.webp)
.webp)
আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url