রক্তে হিমোগ্লোবিন এর সঠিক তাপমাত্রা কত
আপনি কি? রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা কত জানতে চাচ্ছেন। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ১৩.৫-১৭.৫ এবং নারী ১২-১৫.৫ডেসিলিটার হয়। আরো জানতে বিস্তারিত পড়ুন।
রক্তে হিমোগ্লোবিন এর সঠিক তাপমাত্রা কত শরীরের উপর ডিপেন্ড করে সেটা নির্ভর করা হয়। তাই রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক এর চাইতে কম হলে রক্ত দেওয়া প্রয়োজন পড়ে। এজন্য হিমোগ্লোবিন এর কত পরিমান রক্ত প্রয়োজন হলে রক্ত দিতে হবে। চলুন জেনে নিই।
পেজ সূচিপত্রঃ রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা কত হয়।
- রক্ত হিমোগ্লোবিন এর সঠিক তাপমাত্রা
- রক্ত হিমোগ্লোবিন এর সঠিক তাপমাত্রার তালিকা
- মেয়েদের হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা কত হয়
- মেয়েদের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ সমূহ
- রক্তে মেয়েদের হিমোগ্লোবিন কমে গেলে প্রতিকার সমূহ
- শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিন সঠিক তাপমাত্রা
- বয়স ভিত্তিক স্বাভাবিক তাপমাত্রা দেখানো হলো
- বাচ্চাদের হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ সমূহ
- বাচ্চাদেররক্ত হিমোগ্লোবি কমে গেলে করণীয় সমূহ
- উপসংহার
রক্ত হিমোগ্লোবিন
রাখতে হলে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা নির্ভর করে তার শরীরের উপরে, যাদের দেহের গঠন শরীরের তুলনায় অনেক দুর্বল, তাদেরকে তুলনামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে রক্তের গ্লোবিন মেপে রক্ত দিতে হবে। এবং যাদের শরীর আকার আকৃতির দিক দিয়ে অনেক বেশি। তাদেরকে ও রক্ত গ্লোবিন মেপে রক্ত দিতে হবে।
তবে সাধারণভাবে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ৩৬.১ থেকে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এ রক্তের হিমোগ্লোবিন সঠিক তাপমাত্রা থাকে। তাহলে দেহে তাপমাত্রায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এ তাপমাত্রা কমে যায় হিমোগ্লোবিনও কমে যাবে। তাহলে চলুন কোন বয়সে কি কি তাপমাত্রা থাকা স্বাভাবিক জেনে নেই।
আরো পড়ুনঃ রক্তদানের গুরুত্ব: ১৫ টি উপকারিতা নিয়ম ও সতর্কতা
রক্ত হিমোগ্লোবিন এর সঠিক তাপমাত্রার তালিকা
| তাপমাত্রা | অবস্থা | হিমোগ্লোবিন এর কার্যকারিতা |
|---|---|---|
| ৩৬.৫-৩৭.৫ তাপমাত্রা | সভাবিক শরিরের তাপমাত্রা | হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে |
| ৩৮-৪০ তাপমাত্রা | জ্বর বা হাইপারথার মিয়া | হিমোগ্লোবিন দ্রুতভাবে অক্সিজেন ছেড়ে দেয় ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবারহ বাড়ে |
| ৩৫--৩৬.৫ | সামান্য | হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ছাড়ার গতি কিছুটা কমে যায় |
| .৩২-৩৫ | মাঝারি | হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ছাড়তে ধীর গতিতে কাজ করে ফলে শরিরের কোষ গুলো অক্সিজেন অভাবে কষ্ট পেতে থাকে |
| ৩০-এর নিচে | গুরুত্ব | হিমোগ্লোবিন কার্যকারিতা মারাক্তক ভাবে বেড়ে যায় এজন্য শরিরের বিভিন্ন অংগ অক্সিজেনের সংকট পড়ে |
রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের অনেক কম হয়। অনেকে ভাবে যে পুরুষদের ন্যায় মেয়েরাও সেম রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে কিন্তু এটা সঠিক নয় এর সঠিক বিষয়টি হল পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের তিন শতাংশ হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিকভাবে কম থাকে।পুরুষদের যদি হিমোগ্লোবিন ১৩ দশমিক পাঁচথেকে 17.5 গ্রাম হয় তাহলে মেয়েদের রক্তে হিমোগ্লোবিন এর তাপমাত্রা হয় ১২ থেকে ১৫.৫ দেসিলিটার এজন্য মেয়েদের শরীর স্বাভাবিক হয়ে দুর্বল থাকে।
মেয়েদের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ সমূহ
যদি রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা কমে যায়। এক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা যায় মেয়েরা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে দুর্বলতার সাথে সাথে শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। এবং মাথা ঘুরায় এর সাথে শরীরের ব্যথা অনুভূত হয়। চোখে উপরে কালো দাগ পড়ে যায় আর অতিরিক্ত ঘুম আসে।
এছাড়াও বিপদজনক রোগ গুলো হতে পারেক্যান্সার স এইডস লিভার সিরোসিস পেটে আলসার পায়েলস টিউমার ইত্যাদি ।
মেয়েদের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে প্রতিকার সমূহ
রক্ত যদি হিমোগ্লোবিন কমে যায়। এক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এই খাবার অবশ্যই সময় খাদ্য বজায় রাখা প্রয়োজন খাবারগুলো হল।
আরো পড়ুনঃ রক্তমাশায় রোগে কি খাবেন: উপকারি খাবারের তালিকা ও খাদ্যাভ্যাস এবং সতর্কতা
ভিটামিন বি, ফলিক এসিড ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরী প্রয়োজন।
প্রাণিজ উৎসাহের খাবার
লাল মাংস, লিভার বা কলিজা গরু অথবা মুরগির
ডিম ডিমের কুসুম অবশ্যই খেতে হবে
মাছ টসামুদ্রিক মাছ হলে ভালো হয় মাছগুলো হল টোনা স্যামন ইলিশ ইত্যাদি
সিফুড এর মানে হচ্ছে শামুক ও ঝিনুক জাতীয় খাবার।
সবুজ শাক পালং শাক মিষ্টি কুমড়া পাতা কলমি ইত্যাদি
ডাল শ্যাম জাতীয় খাবার সোয়াবিন ছোলা মটরশুটি মসুরের ডাল ইত্যাদি
কাঠবাদাম চিয়া সিড তিল কাজুবাদাম কাঠবাদাম।
আয়রন সমৃদ্ধ ফল সমূহ
ডালিম আয়রন সমৃদ্ধ ফলের মধ্যে অন্যতম। আপেল কমলা ও মালটা কিসমিস ও খেজুর ও তরমুজ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে।
দুগ্ধজাতীয় খাবার
জাতীয় খাবারের মধ্যে প্রথমে দই ও দুধ এবং পনির খাওয়া যেতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়।
শিশুদের রক্তে হিমোগ্লোবিন সঠিক তাপমাত্রা কত
রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক তাপমাত্রা শিশুদের ক্ষেত্রে কত হবে। এটি স্বাভাবিক মাত্রার চাইতে কম হয় কারণ এদের অনেক সমস্যা দেখা দেয় সাধারণত যে সমস্ত লক্ষণ গুলো দেখা যায়। সেগুলো পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হলো।
বয়স ভিত্তিক স্বাভাবিক তাপমাত্রা তালিকায় দেখানো হলো
| বয়স | স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা | হিমোগ্লোবিনের কার্যকারিতা |
|---|---|---|
| নবজাতক(০-১মাস) | ৩৬.৫-৩৭.৫ | নবজাতকদের হিমোগ্লোবি ন এইচb f |
| শিশু(১-১ বছর) | ৩৬.৫-৩৭.৫ | ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্কদের হিমোগ্লোবিন এইচ বি এ গঠন শুরু করে |
| শিশু(১-১২ বছর) | ৩৬.৫-.৩৭.৫ | স্বাভাবিক অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা বজায় রাখে |
| কিশোর(১৩-১৮ বছর) | ৩৬.৫-৩৭.৫ | পূর্ণবয়স্কদের মতো হিমোগ্লোবিন কাজ করে |
| প্রাপ্ত বয়স্ক(৬০বছর) | ৩৬.৫-৩৭.৫ | স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন কাজ করে তাপমাত্রা স্থির থাকে |
| প্রাপ্ত বয়স্ক(৬০+বছর) | ৩৬-৩৭.২ | কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন কমতে পারে বিশেষ করে আয়রন বা ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে |
আরো পড়ুনঃ ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার ২০টি উপকারিতা ও পুষ্টি গুনাগুন
বাচ্চাদের হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ সমূহ
সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে
মুখ হাত-পা ফ্যাকাস হয়ে যায়
দুর্বলতা ও অবসন্নতা দেখা দেয়
শারীরিক পরিবর্তন
মাথা ঘুরায় ও ঝিমায়
হৃদয় স্পন্দ বেড়ে যায়
শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে তোলে
নখ ও চুল দুর্বল হয়ে ভাঙ্গুর হয়ে যায়
খাবারের অস্বাভাবিক অভ্যাস সে পরিপূর্ণ
মাটি কাদামাটি চুন
বরফ
কাঁচা চাল
বা কাগজ খাওয়া প্রবণতা বেড়ে যায়
বুদ্ধিভিত্তিক আচরণগত পরিবর্তন
পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে যায়
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়
বাচ্চাদেররক্ত হিমোগ্লোবি কমে গেলে করণীয় সমূহ
রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া ।শিশুর এ সমস্ত লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই যেসব কাজ করতে হবে সেগুলো হল প্রথমে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে । এরপরে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য আয়রন ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে এক্ষেত্রে ওষুধের নিরাপদ খেতে দিতে পারেন।
উপসংহার
রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ যখনই কমে যাবে। তখনই সঠিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে রোগগুলোকে দূরে সরিয়ে দিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে। আশা করছি ওপরের বর্ণিত আর্টিকেলে এর রক্ত হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া। এবং প্রতিকার সমূহ আপনাদের উপকারে আসবে তাই সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসুন। এটা হল লেখক এর একমাত্র কাম্য। এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি কারো উপকার হয়। তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

.webp)
.webp)
আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url