মনিপার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন ও খরচ

  আজকের আর্টিকেলে মনিপার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন, থাকা খাওয়া, ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ টিপস সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।

মনি-পার্ক-ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া

মনিপার্ক কুষ্টিয়া গোলাপ নগর ভেড়ামারা সেরা পর্যটন কেন্দ্র। মনি পার্কের ভেতরে সৌন্দর্য এবং আশেপাশের অনন্য দৃশ্য। দর্শনার্থীদের জনপ্রিয়তায় বিশেষ স্থান দখল করছে।

পেজ সূচিপত্রঃমনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন খরচ ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে পড়ুন

মনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া

মনি পার্ক( Monipur park) ভেড়ামারা কুষ্টিয়া জেলার একটি কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র। মনি পার্ক কৃত্রিম ভাবে গড়ে উঠলেও প্রকৃতির বিশেষ জায়গা আছে । যা দর্শনার্থীদের মনে ভিন্ন  সৌন্দর্য ছোঁয়া দেয়। মনি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ মূল আকর্ষণ। এ পার্কের সৌন্দর্য পদ্মা নদীর পাড় ফুটিয়ে তুলেছে। জন্য এ পার্কের সৌন্দর্য অনেকটাই ভিন্ন প্রকৃতির স্বাদ পাওয়া যায়।  ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হার্ডিংব্রিজ লালন শাহ সেতু পাশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের সেরা জং ঈশ্বরদী এ পদ্মা নদীর পাশেই অবস্থিত।

মনি পার্ক প্রকৃতির সৌন্দর্য বেশি লক্ষ্য করা যায়। পদ্মা নদীর তীরে এ পার্কে শান্ত স্নিগ্ধ নিরিবিলি পরিবেশ হিমেল বাতাস মনের অজান্তে ভালো লাগার শিহরণ যোগায়। মনি পার্ক রংবেরঙের ফুল ও সবুজ ঘাসের চাদরে মোড়ানো চারিদিক সুন্দর দেখায়। মনিপার্ক ও নদীর ঢেউয়ের তরঙ্গ সঙ্গে হিমেল বাতাস গায়ে লাগিয়ে সেডেড বেঞ্চ, ছাতা নিচে বসে সৌন্দর্য উপলব্ধি করা। আরামদায়ক ভাবে এই সৌন্দর্যের প্রাণ কেন্দ্রের মধ্যে, নিরিবিলি মনের সুখে সময় কাটানো যায়।

এছাড়া এপার্কে দর্শনার্থীদের তুলনামূলকভাবে ভিড় কম থাকায় সবুজ শ্যামল পরিবেশ মনোমুগ্ধকর দেখায়। যা পদ্মা নদীর সৌন্দর্য পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন। এ পার্কের অন্যত মুল আকর্ষণ গেটের কারুকার্য। বিশাল আকারের গেট প্রবেশের কিছু মূল্য দিতে হবে। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য আপনাকে আলাদা সামান্য কিছু খরচ বহন করতে হবে।

মনি পার্ক গোলাপ নগর সোলেমান শাহ পীরের দরবার শরীফ। এক কিলোমিটার দূরে, মাজারের ডান দিকে  অবস্থিত। আপনি চাইলে কুষ্টিয়া সদর থেকে চলে আসতে পারেন। মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম কোন বরাব, মোকারিমপুর ও বাহিরচর এই দুই গ্রামের মিলিত সীমানায় অবস্থান।

মনি পার্কে প্রবেশ ফি কত

মনি পার্ক প্রবেশ ফি হলো।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা

পাঁচ বছর শিশুর জন্য ফ্রি

গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মোটরসাইকেল ২০ টাকা বড় গাড়ি ১০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

মনি পার্কে যা দেখবেন 

মনি পার্কের সৌন্দর্য প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে তৈরি। যার সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। আসুন নিচে এর সৌন্দর্যের বিশেষ দিকগুলো জেনে নেওয়া যাক।

সবুজ শ্যামলে ভরা পরিবেশ

মনিপার্ক কুষ্টিয়া প্রচুর গাছপালা ও সবুজ শ্যামলের ভরা শান্ত প্রকৃতির একটি পর্যটনকেন্দ্র। প্রশাস্থ্য মাটির রাস্তা প্রাকৃতিক ঘেরা পরিবেশ যা মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল করে তুলে। সেই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার কারণ হলো পদ্মা নদীর তীরে এ পার্ক অবস্থিত হওয়ায়। পদ্মা নদীর সৌন্দর্য পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করা যায়। এছাড়াও এ পার্কের ভেতরে বিভিন্ন ফুলের গাছ ফুলের সুগন্ধি এই পার্কে মুখরিত করে রাখে। বিভিন্ন জায়গায় বেঞ্চ এবং ইটের তৈরি বসার স্থান তৈরি করা আছে। যা দর্শনার্থীদের জন্য সময় কাটানো সেরা পর্যটন কেন্দ্র।

আরো পড়ুনঃদিশা টার্ক কুষ্টিয়া যাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানুন

খোলা নীল আকাশ প্রকৃতির ছোঁয়া

মনিপুর পার্ক পদ্মা নদীর সংলগ্ন হওয়ায় সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। খোলা নীল আকাশ মনে হয়। যেন নদীতে গিয়ে মিশেছে। সে সাথে পদ্মা নদীর হিমেল হাওয়া মনের গহীনে আনন্দের সাড়া দিয়ে যায়। এ পার্কে সন্ধের সময় চারিদিকের উজ্জ্বল আলোয়। এক অন্যরকম সৌন্দর্যের দিগন্ত উদ্ভাসিত হয়। যা পর্যটকের জন্য এটাই হল মূল আকর্ষণ।

পার্কের প্রবেশদ্বার ও রাস্তা সৌন্দর্য

মনি পার্ক রাস্তার মেন রোডে তীর চিহ্ন দিয়ে ইঙ্গিত দেওয়া পার্কের দিকনির্দেশনা।এই রাস্তার দুই পাশে সবুজের সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। একই রাস্তা ১৫-২০ মিনিট সামনে এগোলে পার্কের প্রধান গেট। এই বিশাল আকৃতির গেটের কারুকার্যের সৌন্দর্য পর্যটকদের চোখে পড়ার মতো।

পরিবার শিশুদের জন্য আদর্শ স্থান

মনিপার্ক ভ্রমণে দেখা মিলবে। শিশুদের বিভিন্ন রাইড। আরো অন্যান্য মজার বিনোদন সামগ্রী, যা শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক।  মনি পার্কের পরিবেশ মনোরম শান্ত-সবুজ ।  নিরিবিলি সময় কাটানো সেরা প্রশান্তির স্থান। যেখানে প্রাকৃতিক রূপরেখার ছবি তোলা ও  নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অপূর্ব সৌন্দর্য

মনিপার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া গোলাপ নগর দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রমণের আদর্শ স্থান। এর মূল কারণ হলো পদ্মা নদীর তীরে সকালে সূর্যোদয় লাল বর্ণ ধারণ করে, ধীরে ধীরে ঘন কুয়াশাকে দূর করে, আলোকিত করে। নদীর পানি রক্তিম রং ধারণ করে। যা অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। আবার বিকেলের এই শান্ত নিরিবিলি পরিবেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা। এরপরে সূর্যাস্তের নিলাভ গোধূলি রং নিয়ে, পদ্মা নদীতে ধীরে ধীরে অস্ত যাওয়া। অসম্ভব সুন্দর্য ফুটিয়ে তুলে। এ যেন স্বর্গে অনুভূতি প্রকাশ করে।

মনি-পার্ক-ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া

ফটোগ্রাফির সেরা স্থান

মনি পার্কের সূর্যাস্তের সৌন্দর্যে  দৃশ্য উপভোগ করা, তো আছেই। সেসঙ্গে ইউটিউবার ব্লগারদের জন্য, এই দৃশ্য ধারণ করা, সত্যিই অসাধারণ। যা মুখে বলে বোঝানো যাবে না। এই পার্কে আসলে, দর্শনার্থীদের ষোল আনা, ভ্রমণ প্রত্যাশা পূর্ণ হয়।

আরো দেখুনঃ স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট পাবনা যাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানুন 

যাওয়ার সেরা সময়

মনিপার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া যাওয়ার সেরা সময় শীত মৌসুম। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। আবহাওয়া আরামদায়ক ও শীতল থাকে। এই শীতকালকে ফটোগ্রাফির জন্য,   সেরা সময় নির্ধারণ করা হয়।

দিনের সেরা সময়

মনিপার্ক ভ্রমণের দিনের সেরা সময় সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত। সবচেয়ে ভালো সময়।

 বিকাল ৪ঃ০০ টা থেকে সূর্যাস্ত অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট।

আপনি চাইলে বর্ষার শেষের দিকে যেতে পারেন। এই সময় সবুজে চারিদিক সৌন্দর্যে ভরপুর থাকে। প্রকৃতি তার আসল রূপের দেখা দেয় । পদ্মা নদী পানিতে ভরপুর থাক। এমন সৌন্দর্য দৃশ্য উপভোগ করা। প্রকৃতিপ্রেমীদের পর্যটকদের জন্য সেরা স্থান।

মনি পার্ক কিভাবে যাবেন

মনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন, এ নিয়ে পর্যটকগণ, অনেক চিন্তা ভাবনাই করেছেন। চলুন আমরা আপনাদের দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য, সুন্দর একটি রুট সাজিয়ে দিলাম।

ঢাকা টু মনিপুর যাওয়ার উপায়

ট্রেনে

ট্রেনযোগে ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে, কুষ্টিয়া ভেড়ামারা মনি পার্ক যাওয়া একেবারে সহজ রূট দেখানো হল।

ঢাকা ভেড়ামারা জংশন

ঢাকা থেকে ভেড়ামারা যে সমস্ত ট্রেনগুলো চলাচল করে ।এই ট্রেনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলো

ট্রেনের নাম

  • সুন্দরবন এক্সপ্রেস
  • মধুমতি এক্সপ্রেস
  • চিত্রা এক্সপ্রেস

ট্রেনের সময়সূচি ও বন্ধের দিন

ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বন্ধের দিন
সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৮ টা সকাল ১১ঃ৩৫ মিনিট বুধবার
মধুমতি এক্সপ্রেস বিকাল ৩ টা সন্ধ্যা ৭ঃ২২ মিনিট শনিবার
বেনাপোল express রাত ১১ঃ৩০ মিনিট ভোর ৩ঃ২০ মিনিট বুধবার

ভেড়ামারা নেমে যাবেন

ঢাকা থেকে ভেড়ামারা যেতে সময় লাগে ৪.৫-৫ ঘন্টা

ট্রেনের ভাড়াঃ জনপ্রতি ৪৫০ - ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। শ্রেণী ভেদে

ভেড়ামারা স্টেশন থেকে মনিপার্ক অটো রিস্কা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের রাস্তা জন প্রতি ৫০-৭০ টাকা ভাড়া নেবে,

বাসযোগে

ঢাকা গাবতলী কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা বাস টার্মিনাল আসা যায়।

এ রুটে চলাচলকারী বাসের নাম 

হানিফ এন্টারপ্রাইজ

শ্যামলী পরিবহন

 জে আর  পরিবহন

এস বি সুপার ডিলাক্স

নিউ গ্রিন এক্সপ্রেস

দিগন্ত পরিবহন ইত্যাদি

ঢাকা থেকে বাস কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার সময়সূচি

বাসের নাম প্রথম ছাড়ার সময় শেষ ছাড়া সময় বর্ণনা
হানিফ এন্টারপ্রাইজ সকাল ৬:৩০ মিনিট দুপুর ১২ টা নিয়মিত সার্ভিস
শ্যামলী পরিবহন সকাল ৭:৩০ মিনিট রাত ১১ঃ ১৫ মিনিট প্রায় প্রতি ঘন্টা
জে আর পরিবহন সকাল ৬:৩০ মিনিট রাত ১১ঃ৪৫ মিনিট ফ্রিকোয়েন্সি
এস বি সুপার ডিলাক্স সকাল ৮:৩০ মিনিট দুপুর ১২ঃ৩০ মিনিট সীমিত সেবা

বাসে যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা

বাসের ভাড়া

নন এসি জনপ্রতি = ৪৫০-৫০০ টাকা এবং এসি  ৮০০-১০০০ টাকা ।

কুষ্টিয়া শহর থেকে সিএনজি কিংবা লোকাল বাসে ৪০-৫০ মিনিটে ভেড়ামারা পৌঁছে যাবেন। জনপদে ৮০-১০০ টাকা ভাড়া নেবে এখানে নেমে সোলেমান শাহ দরবার শরীফের দিকে এগোলে, লোকজনকে  জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে, মনি পার্ক । 

আরো জানুনঃ কুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানুন

মনি পার্ক কুষ্টিয়া কোথায় থাকবেন

মনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া থাকার বড় মানের ভালো হোটেল পাবেন না। তবে থাকার জন্য ভেড়ামারা উপজেলা বা কুষ্টিয়া ভালো হবে।

ভেড়ামারা উপজেলায় থাকা

অল্প সময়ে কম খরচে থাকার জন্য, সাধারণ বা আবাসিক হোটেল পাবেন।

নন এসি রুম ভাড়া ৫০০ - ৮০০ টাকা।  থাকা খাওয়ার ও রাত কাটানোর সুবিধা পাবেন।

এখান থেকে ১৫- ২০ মিনিট সময় লাগে

কুষ্টিয়া শহর

মনিপার্ক ভ্রমণে আরামদায়ক সার্ভিস চাইলে, ভালো মানের হোটেল পাবেন।

  • হোটেল শাপলা
  • হোটেল রিভার ভিউ
  • হোটেল রোজ ভেলি
  • হোটেল রয়েল প্লেস
  • হোটেল হাসান international

হোটেল গ্রিনল্যান্ড হোটেল গ্রিনল্যান্ড চড় হাস মোড় ঝিনাইদহ রোড

এসব হোটেলের নন এসি রুম ভাড়া ১২০০- ২ হাজার টাকা প্রতিরাত

এসি রুম রুম ভাড়া ২৫০০ - ৪ হাজার টাকা। লিফটের সুব্যবস্থা সহ, ওয়াইফাই এর সুবিধা আছে।

কুষ্টিয়া শহর থেকে মনি পার্কে দূরত্ব ৪৫ - ৬০ মিনিট।

কুষ্টিয়া /ভেড়ামারা কোথায় খাবেন

মনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া ভ্রমণে মনিপার্কের কাছাকাছি নিউ রয়েল রেস্টুরেন্টঃ ভালো মানের খাবার পাবেন। 

ফুড বাজারঃ হালকা খাবার দ্রুত খাবারের জন্য।

কুষ্টিয়া শহর

মনিপার্ক ভ্রমণে কুষ্টিয়া শহরে খাওয়া দাওয়া সেরে নেয় ভালো। এখানে ভালো মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন।

হোটেলের নাম

মেহেরজান ডাইন কুষ্টিয়া ভালো রিভিউ এবং জনপ্রিয় ডাইন স্পট

মোবান মাসালাঃ সাধারণ মনের ভালো খাবার

কারামাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টঃ মাল্টি কুইজিন খাবারের জন্য ভালো

 চিল ফুড পার্কঃ রোডের পাশেই এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান

এসব হোটেলে দুপুর রাতের খাবার পাওয়া যায় খাবারের মধ্যে থাকতে

ভাত বিরানি চাইনিজ রোল কপি-টিফিন ইত্যাদি

প্রতিবেলা খাবারের জন্য জনপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা খরচে ধরুন।

এছাড়াও আপনি চাইলে সাধারণ হোটেলে খেতে পারেন

খাবারের যা পাবেন

  • ভাত
  • মাছ
  • মুরগি 
  • গরুর মাংস
  • সবজি
  • ডাল
  • ও ভর্তা ভাজি

জনপ্রতি প্রতিবেলা দেড়শ থেকে ২০০ টাকা খাবারে ধরবেন

মনিপার্ক ভ্রমণে সঙ্গে যা নিবেন

মনিপার্ক ভ্রমণের সঙ্গে যেসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিবেন। এর একটি তালিকা আপনাদের সুবিধার্থে সাজিয়ে দিলাম।

  • প্রবেশের টিকিটের টাকা
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • মোবাইলে ফুল চার্জ
  • আরামদায়ক ফুল হাতা শার্ট
  • হাঁটার জন্য ভালো জুতা
  • টুপি বা ক্যাপ
  • সানগ্লাস
  • টিস্যু বা রুমাল
  • নিরাপদ পানির রুম বোতল
  • বাচ্চাদের জন্য শুকনো খাবার 
  • ভালো মানের ক্যামেরা অথবা ড্রোন
  • ছোট্ট backpack.

যেসব জিনিস না নিলেই ভালো

  • বেশি দামি গহনা
  • অপ্রয়োজনীয় বড় ব্যাগ
  • অতিরিক্ত ক্যাশ এক জায়গায় না রাখা
  • নিজের জিনিসপত্রের উপর নজর রাখা

সম্ভাব্য সতর্কতা 

মনি পার্ক ভ্রমণে কিছু সর্তকতা দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো। যেন এই ধাপগুলোর প্রতি  সতর্কতা অবলম্বন করেন

  • এ রাস্তায় পায়ে ভালো জুতা রাখুন
  • চিহ্নিত পথ দেখে বাইরে চলাফেরা করবেন
  • একা কোথাও যাবেন না
  • ব্যক্তিগত ওষুধপত্র সঙ্গে রাখুন
  • অগ্রিম ভাড়া বা ট্রাভেল বুকিং সঙ্গে রাখুন
  • পার্কের মধ্যে আবর্জনা ফেলবেন না
  • বাচ্চাদের সম্মুখে ধূমপান করবেন না
  • সকালে এবং বিকেলে ভ্রমণের চেষ্টা করুন
  • স্থানীয়দের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন।

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া মনিপার্ক ভ্রমণে জন প্রতি এক রাত দুই দিন খরচ কত

যাতায়াত = ৪৫০ - ৬০০ টাকা

প্রবেশ টিকিট = ২০ - ৫০ টাকা

খাবার ৬০০ - ৮০০ টাকা।

থাকা = ২৫০ - ৬০০ টাকা

অন্যান্য খরচ ১০০ - ২০০ টাকা

মোট খরচ ১৮৭০ - ২৮৫০ টাকা।

মনি পার্কের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান

মনিপার্ক ভ্রমণে আশেপাশে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান দেখতে পাওয়া যায়। যা একই খরচে ঘুরে দেখে সমৃদ্ধ হবেন ।

কুমার নদীঃ কুমার নদী পার্কের কাছে বয়ে চলা একটি শান্ত  নদী। ছোট্ট নৌকা নিয়ে, ভালো মানের ছবি তোলা প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা।

বাঁশবাগান ও গ্রামীণ এলাকাঃ পার্কের সামনেই গ্রামীণ এলাকা বাসের বাগান ও ছোট্ট ছোট্ট খামার। এখানে প্রাকৃতিক গ্রাম ও স্থানীয় মানুষের জীবনধারার দেখা মেলে।

ভেড়ামারা বাজারঃ স্থানীয় হস্তশিল্প বিক্রয়ের বাজার। যেমন গামছা লুঙ্গি বিভিন্ন তাতের শাড়ি রঙের ডিজাইনের শাড়ি গুলি কম দামে পাওয়া যায়। এছাড়া এ বাজারের মিষ্টি খুব নামকরা।

চুরুলিয়া মঠঃ এপার থেকে কিছু কিলোমিটার দূরে এই মঠের অবস্থান। যা যা এখানকার ঐতিহ্যবাহী মঠ বা মন্দির।

মনি-পার্ক-ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া

ক্লিক করুনঃ রাজবাড়ি জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতি এবং যাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানুন 

কুষ্টিয়া শহরের আশেপাশে দর্শনীয় স্থান

মঙ্গলা হাজী মাজার

হেরিটেজ স্পোর্টস /পুরনো রাজবাড়ী

কুষ্টিয়া রেলস্টেশন

ঈশ্বরদী জংশন

প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পাহাড়

সম্ভাব্য প্রশ্ন উত্তর পর্ব 

মনি পার্ক সম্পর্কে কিছু প্রশ্নোত্তর পর্ব সাজিয়ে দিলাম, আসুন জেনে নেওয়া যাক

প্রশ্নঃ মনিপার্ক কখন খোলে

উত্তরঃ সকাল ৯ টায় খুলে দেওয়া হয় সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত, সপ্তাহে প্রতিদিনই খোলা থাকে।

প্রশ্নঃ কুষ্টিয়া শহর থেকে মনিপার কত কিলোমিটার দূরে

উত্তরঃ কুষ্টিয়া শহর থেকে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

প্রশ্নঃ ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় কখন

উত্তরঃ শীতকাল, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস।

প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে একদিন ভ্রমণে কত খরচ হবে

উত্তরঃ জনপ্রতি একদিনে খরচ হবে ৭৭০-১২০০ টাকা।

আমাদের শেষ কথা

মনিপুর পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন, খরচ ও দর্শনীয় স্থান সালের সঠিক অনুযায়ী  তথ্য। এই আর্টিকেলে তুলে ধরলাম। আশা  বুঝতে পেরেছেন । কোথায় থাকবেন কিভাবে যাবেন কি খাবেন সম্পূর্ণ তথ্য, এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে। এরপরও যদি আপনাদের কাছে কোন প্রশ্ন থেকে থাকে। তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা তার সঠিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উপকৃ হব।

আজকের আর্টিকেলটি মনি পার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া। আপনাদের কাছে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনাদের আত্মীয়-স্বজনের নিকট শেয়ার করে ফলো দিয়ে দিবেন কারণ আমরা এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিনই নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকে। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে, আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url