বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত টাকা লাগে: ভিসা ও টিকিট খরচ

 বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত টাকা লাগে ভিসা ও টিকিট খরচ এবং সময়ের পার্থক্য, কি কাগজপত্র লাগে? বিস্তারিত আপডেট তথ্য জানতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

বাংলাদেশ-টু-ইতালি

ইতালি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি অঙ্গ সংগঠন রাষ্ট্র। এটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি। ইতালিতে যারা জব করতে আসেন তারা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। তো চলুন  ইতালি যেতে বাংলাদেশ থেকে কত টাকা লাগে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত টাকা লাগে: ভিসা ও টিকিট খরচ তথ্য বিস্তারিত পড়ুন।

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার উপায় 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে, আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা পয়সা এবং বয়স। এই তিনটে সাইট যদি সবকিছু ঠিক  থাকে। তাহলে ইতালি যেতে বেশি সময় লাগবে না। তবে কিছু শর্ত প্রযোজ্য দালাল এড়িয়ে চলুন। কোন কোন ক্ষেত্রে দালালের খপ্পরে পড়লে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগবে। আপনি যদি সরকারি ভাবে যেতে পারেন, ভিসার প্রসেসিং তাড়াতাড়ি  হয়। তাহলে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ইতালি চলে যেতে পারেন। 

যেসব ভিসায় ইতালি যাওয়া যায় 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে চারটি ভিসা প্রসেসিং করা হয়। এ সকল ভিসার মাধ্যমে ইতালি যাওয়া সম্ভব হয়। তো চলুন কি কি ভিসা পাওয়া যায়। আজকের পোস্টে জেনে নেওয়া যাক।

  • স্পন্সর ভিসা 
  • ইস্টুডেন্ট ভিসা 
  • টুরিস্ট ভিসা 
  • মেডিকেল ভিসা 

এই চারটি ভিসায় ইচ্ছা করলে, আপনার স্বপ্নের দেশ ইতালি ঘুরে আসতে পারেন।

 আরো পড়ুনঃবাংলাদেশ থেকে ভারত যেতে কত টাকা লাগে জানুন

বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার নিয়ম নীতি 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে দুই রকম ভিসার সিস্টেম চালু আছে। একটি হচ্ছে বৈধ আর একটি হচ্ছে অবৈধ ভিসা। আপনি যদি অবৈধভাবে যেতে চান তাহলে টাকা ও সময় কম লাগবে। বৈধভাবে গেলে বেশি টাকা লাগবে। কিন্তু একটি ব্যাপার আছে। আপনি যদি সরকারিভাবে ইটালি যেতে চান। তাহলে সময় বেশি লাগবে। একটি বিষয় বলে রাখা ভালো বেসরকারিভাবে গেলে, দালালের খপ্পরে পড়ে, আপনার টাকা উধাও হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বৈধ ভাবে যাওয়াটাই ভালো।

বাংলাদেশ-থেকে-ইতালি

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ

ইতালির ভিসা আবেদন করার জন্য যে সমস্ত কাগজপত্র লাগে তার মধ্যে অন্যতম হলো।

  • এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র 
  • বৈধ পাসপোর্ট 
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি 
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট 
  • বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি অফার লেটার 
  • রিকমেন্ডেশন লেটার ভ্রমণ সম্পর্কে বলা
  •  একাডেমি সার্টিফিকেট 
  • একাডেমির ট্রান্সক্রিপ
  •  কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট 
  • এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট 
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট 
  • মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট। 

ইতালি যেতে কত টাকা লাগে জানুন 

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্র হচ্ছে ইতালি। ইতালির মত একটি ধনী দেশে জবের আশায় মানুষ প্রতিনিয়তই অপেক্ষায় থাকে।এর কারণে এদেশের টাকার মান অনেক বেশি এবং কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে থাকে ।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে প্রায় ৮ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লাগে । বেসরকারি ভাবেগেলে আপনার এ খরচ বেশি লাগবে। আর সরকারি ভাবে গেলে আপনার ভিসা প্রসেসিং নিয়ে অফিসিয়াল খরচে যেতে পারবেন। 

আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্ক ভিসার দাম 

ইতালিতে যদি কোন আত্মীয়-স্বজন থেকে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনার ভিসার দাম কম লাগবে। আপনার জন্য  যাওয়াটাও সুবিধার হবে। আত্মীয়-স্বজন জানে যে বিমানের ভাড়া কত বা অন্যান্য যেগুলো খরচ আছে। সেগুলো  তুলনায় আপনার খরচ অনেক কম হবে, এক্ষেত্রে আপনার খরচ চলে আসবে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ।

আরো পড়ুনঃকুয়েতে হোটেলের ভিসার বেতন কত এবং এর সম্পর্কে ধারণা

আনসিজিন্যাল খরচ সমূহ 

সিজিনাল খরচে আপনি যদি যান। তাহলে আপনার এভাবে ১৫ লাখ টাকা লাগবে। যদি অন সেজিনাল ভাবে যান। তাহলে আপনার খরচ আসবে ৫ থেকে সাত লক্ষ টাকা। যার খরচ মূল্য অনেকটাই কম। অন  সিজনাল যাওয়াই ভালো হবে।

সরকারি ভিসায় খরচ কত

সরকারি ভিসায় গেলে আপনার খরচ আসবে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। যেটা এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পারবেন। তবে স্পন্সার ভিসাতে  যেহেতু অনেক সুবিধা পাবেন। তাই আপনির স্পন্সর ভিসার খরচ আসবে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে নিজস্ব লোক থাকলে খরচ আরো অনেক কমে যাবে। খরচ প্রায়  ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকাতে চলে আসবে। 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত সময় লাগে 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার দুইটি সিস্টেম চালু আছে। একটি হচ্ছে আকাশ পথ ,আরেকটি হচ্ছেন নৌপথ। নিচে দুটি যাতায়াত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো ।

নৌপথে ইতালির যাত্রা 

বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে কোনো বৈধ বা অনুমোদিত অথবা বেসরকারি কোন নৌপথ/জাহাজ সেবা চালু নেই। বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার একমাত্র আইনি ও নিরাপদ মাধ্যম হলো আকাশপথ (বিমান)। 

এরপরও যদি আপনি বেসরকারিভাবে বিভিন্ন দেশ হয়ে নৌপথে দীর্ঘ প্রসেসিং নিয়ে যেতে যান। তাহলে প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে সলিল সমাধি বরণ করছেন। তাই আমরা এভাবে সমর্থন করিনা।লিবিয়ান কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়লে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে যেতে হয়। 

আকাশ পথে ইতালি  যাত্রা 

আকাশ পথে যাত্রা অনেক সুবিধা আছে। আপনি ১০ ঘণ্টার ভিতরে ইতালি পৌঁছে যাবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের টাকা বেশি লাগবে। তবে বিশেষ কোনো কারণের জন্য এই সময় পরিবর্তন করা হতে পারে। সব মিলিয়ে খরচ হতে পারে, বিমান ভাড়ায় এক লক্ষ টাকা।

বাংলাদেশ-থেকে-ইতালি
বাংলাদেশ থেকে ইতালির সময়ের পার্থক্য 

বাংলাদেশ থেকে ইতালির সময় পার্থক্য প্রায় ৪-৬ ঘণ্টার মতো। ইতালির সময় যদি বাজে ৬ টা বাংলাদেশের সময় ১০টা হবে। 

ইতালির টাকার মান বাংলাদেশের কত

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সময় পাসপোর্ট এর মেয়াদ সর্বনিম্ন এক বছর থাকতে হবে। নয়তো আপনার পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না । এখানে আরেকটি কথা বলে রাখা ভালো । আপনার পাসফোট দিয়ে যাওয়া যেতে পারে । যদি আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত থেকে থাকে ।ইতালি  যাওয়ার পরে আপনি আবার রেনু করে নিতে পারবেন। 

আরো পড়ুনঃআমেরিকায় কোন কাজের চাহিদা বেশি বা আমেরিকায় কি চাকরির জন্য ভালো

ইতালির টাকার মান বাংলাদেশের কত 

ইতালি টাকার মান অন্যান্য দেশে তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশের  তুলনায় আরো বেশি। ইতালির এক ইউরো সমান বাংলাদেশের ১২৬ টাকা। ইতালির বিমান ভাড়া অনেকটা বেশি।

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে বিমান ভাড়া লাগবে এক লক্ষ টাকা। তাহলে  আপনি ইতালি যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার নৌ পথে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাগবে। এক্ষেত্রে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া কম লাগবে। 

ভিসা প্রসেসিং এর সময় সীমা 

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে হলে আপনাকে ভিসায় সময় দিতে হবে। ১০ দিন বা ২০ দিন বা এক মাসের মধ্যে হতে পারে। সর্বোচ্চ ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন। 

বাংলাদেশী ভাইদের সর্বনিম্ন বেতন কত 

বাংলাদেশি ভাইয়েদের সর্বনিম্ন বেতন হচ্ছে ১,৩০,০০০ - ১,৮০,০০০+ টাকা হাজার। তবে ইতালিতে যদি কোন আত্মীয়-স্বজন থাকে সে ক্ষেত্রে আপনার বেতন অনেক বেশি সময় হবে। বিভিন্ন কাজের উপরে  অন্য রকমের ভাড়া বাড়ানো হয় ।আরো যেগুলো নিম্নে চাকরি রয়েছে সেগুলোর বেতন আরো কম বাংলাদেশের টাকা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ইনকাম করবেন যে কোন কাজে।

আরো পড়ুনঃকম টাকায় কোন দেশে যাওয়া যায়

ইটালি student  ভিসা  কত টাকা খরচ লাগতে পারে। 

মিতালীতে যেতে স্টুডেন্ট ভিসায়, কত টাকা খরচ হবে। একদম সঠিকভাবে বলা মুশকিল এজন্য একটি আনুমানিক ধারণা দেওয়া হলো। যদি ইতালি যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে আইইএলটিএস জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আইইএলটিএস কমপ্লিট করতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগবে। এছাড়া ইটালির যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জন করতে গেলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। আর বিমানের টিকিট ভাড়া দিয়ে মোট আপনার ১ লক্ষ টাকায় চলে আসবে।

উপসংহার

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে। সর্বনিম্ন ১২ লক্ষ  টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। সর্বোচ্চ  থেকে ১৭ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তাই আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে পাসপোর্ট সহ যাবতীয় তথ্য জোগাড় করার পরিকল্পনা করতে হবে। অফিস থেকে পাসপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। 

অবশেষে বলা যায় বাংলাদেশ থেকে ইতালি যেতে কত টাকা লাগবে এবং কি কি কাগজপত্র লাগবে এবং সময় বা কতই লাগবে এগুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিতভাবে জানলাম। বাংলাদেশের যে ভাইয়েরা ইতালি যাওয়ার জন্য চিন্তাভাবনা করছেন। তাদের জন্য এই টপিকস টি অত্যন্ত কার্যকরীগুরুত্ব বহন করবে। আজকের মত এ পর্যন্ত আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করলাম। আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url