খাওয়ার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করার সহজ কার্যকরী উপায়

 আজকের আর্টিকেলে খাওয়ার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করার সহজ ও কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আপডেট তথ্য, এক নজরে জানুন।

খাওয়ার-পানি-বিশুদ্ধ-করার-উপায়

আমরা সবাই জানি যে পানিকে ফুটিয়ে নিলেই বিশুদ্ধ হয়ে যায়। এরপরও কিছু নিয়ম আছে পানি বিশুদ্ধকরণের।যার মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করা যায়  তো চলুন জেনে নিই।

পানির জীবাণু ধ্বংস করার জন্য । যেসব পদ্ধতি বা উপায় অবলম্বন করা হয়। যেমন ক্লোরিন ট্যাবলেট দ্বারা, সূর্যের রশ্নি দ্বারা, লবণ ছিটিয়ে দিয়ে। আরো অনেক পদ্ধতি আছে।যেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো

পেজ সূচিপত্রঃ খাওয়ার পানি বিশুদ্ধকরণের সঠিক উপায় বর্ণনা করা হলো।

খাওয়ার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করার উপায়

খাওয়ার পানি সঠিকভাব(Clean drinking water) বিশুদ্ধ করার সহজ কার্যকরী উপায় না জানার কারণে আমরা প্রতিদিন যে পানি পান করে থাকি।সেসব পানিতে অনেক জীবানু থেকে যায়। আমরা এসব জীবাণু গুলো খালি চোখে দেখতে পাই না। না জেনে এই পানি পান করলে আমাদের শরীরের সমস্যা হয়। যে সমস্ত রোগ গুলো হয় যেমন ডায়রিয়া ম্যালেরিয়া ও পানি বাহিত রোগ গুলো হয়। তাই পানিকে বিশুদ্ধ করে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন।

পানির অপর নাম জীবন। আর এই জীবনকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের উচিত প্রত্যেক দিন পরিশুদ্ধ পানি পান করা। আরেকটি কথা আপনাকে আমাকে মাথায় রাখতে হবে যে। খাওয়ার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ না করে খেলে। জীবন নাশের আশঙ্কা থাকে। তাই যেসব উপায়ে। পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয়। এসব বিষয়ে নিচে বিস্তারিত বলা হলো।

খাবার পানিতে জীবাণু থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর এসব জীবাণু ধ্বংস করার জন্য যেসব প্রক্রিয়াগুলো আমরা জানি। বা অনেকে না জানি। সেসব বিষয়গুলো আজকে আমরা এখানে বর্ণনা করবো। সবচেয়ে সঠিক ও উত্তম হবে ফুটিয়ে বিশুদ্ধ পানি পান করা।

বিশুদ্ধ পানি দেহের জন্য কত গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা। সেটা আমরা বুঝতে পারি না যতক্ষণ আমরা সুস্থ থাকি। আমাদের শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে বিশুদ্ধ খাবার পানি। তাই আমাদের উচিৎ পানি কে ফুটিয়ে নিয়ে, ভালো কোন পাত্রের ভিতর, যেমন কাছের পাত্রের ভিতরে বা স্টিলের পাত্রের ভিতরে সংরক্ষণ করা।

খাওয়ার পানি যেসব পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো।

বিশুদ্ধকরণ সঠিক উপায় হচ্ছে পানিকে ফুটিয়ে নেওয়া

 পানির অপর নাম যদি জীবন হয়ে থাকে। তবে সেই পানি যদি হয় দূষিত। তাহলে আরেকটি নাম দেয়া হয় রোগের কারণ। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রায় ৮২ শতাংশ ব্যাকটেরিয়াজনিত পানি পান করে থাকে। শুধু গ্রামাঞ্চলের মানুষই নয়, ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষই ব্যাকটেরিয়া জনিত পানি পান করতে বাধ্য হয়। কারণ সেখানে ভূগর্বের পানি নষ্ট হয়ে গেছে বললেই চলে। তাই জানা দরকার পানিকে পরিষদন করা কিভাবে যায়।

খাওয়ার-পানি-বিশুদ্ধ-করার-উপায়

ফিল্টার করার মাধ্যমে পানিকে বিশুদ্ধকরণ

আমরা যারা ঢাকাতে বা ঢাকার আশেপাশে যারা বসবাস করছি। তারা প্রায় ৬০% মানুষ ফিল্টার ছাড়া পানি পান করতে পারিনা। পানিকে ফুটিয়ে খাওয়ার পরেও মনে হয় বা মনে আশঙ্কা থাকে যে পানিতে ও ব্যাকটেরিয়া রয়ে গেছে। তাই আমরা পানিকে ফিল্টারিং করে পান করি তাছাড়া যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা ফিল্নরিনএর মাধ্যমে পানি পান করে থাকি । একটা হচ্ছে সেরামিক ফিল্টার আরেকটা হচ্ছে রিভার আস মোসেস  ফিল্টার। অধিকাংশ মানসী সিরামিক পানি খেয়ে থাকে।

ক্লোরিন ট্যাবলেট এর মাধ্যমে পানি পরিষ্কার করার উপায়

ক্লোরিন ট্যাবলেট বা পাউডারের মাধ্যমে পানি পরিষ্কার করা যায় অতি সহজে। ক্লোরিন হচ্ছে বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক পদার্থ। যেটা পানির জীবাণু ধ্বংসকারী কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যদি পানি ফুটানো বা ফিল্টারিং করার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ক্লোরিন ট্যাবলেট দ্বারা পানি পরিশোধন করা যায়। অধিকাংশ মানুষ এই পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে।

আরো পড়ুনঃদেশি লাল আলুর পুষ্টিগুন ও ১৫ টি উপকারিতা

পটাশ বা ফিটকারি  দিয়ে পানি শোধন

এক জারকিন পানিতে, সামান্যতম ফিটকারি বা পটাশ মিশিয়ে দিলে। তারপর সে জারটিকে ঘন্টাখানেক মুখ বন্ধ করে রেখে দিলে। যেসব জীবাণুগুলো ছিল সেগুলো মারা যায়। তলা নিতেনেতা থেকে যায়। আর পরিষ্কার করে নিতে হলে, ছাকনি ব্যবহার করুন। যা পানি বিশুদ্ধ করার সহজ উপায়।

সূর্যের আলোর রশ্মি মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করুন

সূর্যের আলোর রশ্নি দ্বারা পানি বিশুদ্ধকরণ করা যায়। কোন একটা পাত্রে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা পানি সূর্যের আলোর রশ্নির দিকে রাখলে তারপর ব্যাকটেরিয়া গুলো সব মারা যায়। এরপরে ছাকনির মাধ্যমে ছেকে তা পান করা যায়। যেসব অঞ্চলে পানি বিশুদ্ধ করে নেওয়ার অন্য কোন উপায় নেই বললেই চলে। সে অঞ্চলগুলিতে সূর্য রশ্নি দ্বারা পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয়।

আয়োডিনের দ্বারা পানি বিশুদ্ধকরণ উপায়

 আয়োডিন বা লবন দারা পানি বিশুদ্ধকরণ করা যায়। এক লিটার পানিতে দুই শতাংশ আয়োডিন ছিটিয়ে দিয়ে তারপরে পানিকে ঢেকে রেখে বিশুদ্ধকরণ করা যায়। পানিতে যেসব জীবাণুগুলো থেকে, জীবাণুগুলো পাত্রের  নিচে চলে যায়। এরপরে ছাকনি দিয়েছে কে নিয়ে বিশুদ্ধ করতে হয়।বন্যার পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া।

লেবুর রস দিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ উপায়

লেবুর রস দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করা যায়। এক লিটার পানিতে মাত্র কয়েক ফোটা লেবুর রস দিয়ে পানিকে বিশুদ্ধকরণ করা যায়। এক্ষেত্রে পানিকে অবশ্যই গরম করে নিতে হবে। ব্যাকটেরিয়াজনিত পানি এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশুদ্ধকরণ করা যায়। অবশ্য পুকুরের পানি বা নদীর পানিকে এই উপায়ে বিশুদ্ধকরণ করা পরিপূর্ণভাবে সম্ভব হবে না। তাই ভূগর্ভের পানিকে এই উপায়ে বিশুদ্ধকরণ করা যায়।

খাওয়ার-পানি-বিশুদ্ধ-করার-উপায়


আলট্রা ভায়োলেট মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ

প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানির সমস্ত ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। যদি পানি জীবনে মুক্ত করে এভাবে খাওয়া যায় তাহলে খুবই ভালো। অনেকগুলো আমাদের দেশে ফিল্টারিং পানের কোম্পানি পাওয়া যায়। করা হয়। আরে তো রয়েছে পিউরিফিকেশন প্রযুক্তি। তবে অতিরিক্ত ঘোলা বা নোংরা পানিতে এ পদ্ধতি বেশি কার্যকরী নয়।

বিশুদ্ধ পানি যে আমাদের জীবনে প্রয়োজনীয়তা।

আমাদের জীবনের সর্বক্ষণিক বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিষয়গুলো কঙ্কনোপঙ্খভাবে বর্ণনা করা হলো।

  1. শরীর জলীয় পানি দ্বারা ভারসাম্য  রক্ষা করে। 
  2. মানবদেহে প্রায় ৬০% পানি সব সময় প্রবাহিত হয়। শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পানির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
  3.  হজম শোষণ ও রক্ত চলাচল এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রাণের ভূমিকা অপরিসীম।
  4.  বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণের মাধ্যমে।

    আরো পড়ুনঃবাচ্চাদের মাখন খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন

  5.  বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণে পানির ভূমিকা অপরিসীম রয়েছে। বিশুদ্ধ  পান করার মাধ্যমে শরীরের ব্যাকটেরিয়া দূর করা যায়। প্রসাবের নালীতে কোনো রকমের সমস্যা হয় না। কিডনি এবং লিভারের যথেষ্ট পরিমাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
  6.  শরীরের ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখা। বিশুদ্ধ পানির মাধ্যমে শরীর ও ত্বক পাশাপাশি চুলের যত্নে নিরাপদ হাইড্রেট  হিসেবে কাজ করে।
  7.  শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে। নিরাপদ  পানি শরীরের যেরকম ভাবে শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কোষগুলো শক্ত  রাখতে সাহায্য করে।

 উপসংহার

এই আর্টিকেলে আমরা খাবার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলাম আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমরা এই পোস্ট থেকে জানলাম সেগুলো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি ও অতীব প্রয়োজনীয়। দৈনন্দিন জীবনকে রোগ মুক্ত রাখার জন্য নিয়ম অনুযায়ী পানি পান করা আমাদের সকলের কর্তব্য মধ্যে পড়ে। আর্টিকেলে যদি কোন রকমের সমস্যা হয়ে থাকে আমাদেরকে কমেন্টে জানান। আমরা আপনাদের সঠিক প্রশ্নের উত্তর দে উপকৃত হব।

 সুতরাং বলা যায় যে,খাওয়ার পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করার উপায়। পানি  আয়োডিন ঠিক রেখে আপনি যদি সঠিক ভাবে পানি পান করেন তাহলে অবশ্যই সুস্থ জীবন কামনা করা যাবে। ডিসিপ্লিন মেনে মেনে জীবনধারণ করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আজকে আর কথা নাই এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url