সাপে দংশনে প্রাথমিক চিকিৎসা: জেনে নিন সঠিক লক্ষণ ও করণীয়
সাপে দংশন করলে ঘরোয়া প্রাথমিক চিকিৎসা সাপে কাটার সঠিক লক্ষণ গুলি কি,করণীয় কি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রথমে ঐ স্থানকে ভালো করে বেঁধে নিন। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। আসলে সাপে কামড়ানো কোন ভয়ের বিষয় নয়। কি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়। চলুন আর্টিকেলে পড়ে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃসাপে দংশনে প্রাথমিক চিকিৎসা: সঠিক লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে সম্পর্কে জানুন।
- সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক লক্ষণ
- শান্ত ও স্থির ভাবে বসে থাকুন
- সাপ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা
- সাপে কামড়ানো জায়গা নিচের দিকে রাখতে হবে
- আঘাত বা ক্ষতস্থান কাটা যাবে না
- ব্যান্ডেজ করা বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা
- আটকানো গয়না বা টাইট কাপড় খুলুন
- হাটা বা চলাফেরা বন্ধ করুন
- অ্যাসিড জাতীয় খাবার নিষিদ্ধ
- যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিন
- প্রাথমিক চিকিৎসার যা যা করা যাবে না
- হাসপাতালে নেয়ার সময় যা যা করবেন
- সাপে কামড়ানোর সাধারণ লক্ষণ সমূহ
- যে সমস্ত সাপের বিষ থাকে না সেগুলো হল
সাপে কামড়ানোর লক্ষণ
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসা ও লক্ষণ এগুলো দেখা যায়। অতিরিক্ত গরমের সময়
এবং অতিরিক্ত বর্ষা সময় জানা যায়। হঠাৎ করে কোন এক গ্রামে অমুককে সাপে কামড়
দিয়েছে। অমুক ব্যক্তি মারা গেছে। আসলে এদের মারা যাওয়ার পেছনে কিছু মানুষের
ভুলও থাকে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার কারণে অনেক মানুষ বেঁচে যায়।
সাপের কামড় একইরকম হয় না। বিশ্বধর ও অবিশধর সাপের ক্ষেত্রে লক্ষণ ভিন্ন হয়।
যেমন কামরের স্থানে দুটি দাঁত বা একাধিক দাঁত দেখা যেতে পারে। কামরের চারপাশে লাল
বা কালো রং ধারণ করে। বমি বমি ভাব হয়, মাথা ঘোরায়, শরীর দুর্বল লাগে,
জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, চোখ বুঝে আসে। কথা বলতে গেলে কষ্ট হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়,
রক্ত জমাট বাঁধে, গুরুত্ব খিচুনি সৃষ্টি হয়, শরীরে জ্বালাপোড়া করে।
গ্রাম অঞ্চলের গরমের সময় অতিরিক্ত সাপের উৎপাত হয়, এ সময় সাপ অনেক রাগান্বিত থাকে, গর্ত থেকে বাইরে আসে। এজন্য জঙ্গলের আশপাশে যাদের বাসা বাড়ি আছে। তাদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে। পাশের বাড়িতে যদি পটাশিয়াম রাখা যায়। তাহলে সাপের উৎপাত কম হয়। তো চলুন সাপে কামড়ালে কি কি ঘরোয়া উপায় চিকিৎসা দেওয়া যায়। জেনে নেওয়া যাক।
সাপে কামড়ালে প্রাথমিক চিকিৎসা সমূহ
সর্ব প্রথমে সাপে কামড়ালে প্রাথমিক ভাবে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা দেয়া দরকার,
ঘরোয়া উপায়ে কি কি চিকিৎসা দেওয়া যায়? চলুন জেনে নেওয়ার যাক।
হাসপাতালে যাওয়ার আগে যা করবেন
- রোগীকে সাহস জোগান এবং হেলান দিয়ে শুইয়ে রাখুন।
- অঙ্গটিকে শক্ত কিছু দিয়ে বেধে রাখুন, যেন উপরের দিকে রক্ত প্রবাহিত না হয়।
- আক্রান্ত অঙ্গটি যেন নড়াচড়া না করে।
- টাইট কাপড়চোপড় গহনা খুলে ফেলুন।
- ক্ষতস্থান পরিষ্কার করুন।
- দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
শান্ত ও স্থির ভাবে বসে থাকুন
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে, যে ব্যক্তিকে সাপে কামড়াবে, ঐ ব্যক্তিকে
স্থিরভাবে বসাতে হবে। অতিরিক্ত নড়াচড়া করা যাবেনা। নড়াচড়া করলে শরীরের ভেতরে
বিষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। এজন্য স্থির ভাবে বসুন।
আরো পড়ুনঃ রক্তদানের গুরুত্ব: ১৫ টি উপকারিতা নিয়ম ও সতর্কতা
সাপ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা
সাপের কামড়ালে প্রাথমিক চিকিৎসা সহজ করার জন্য কি সাপে কামড়ালো চিনে রাখুন বা বুঝতে না পারেন, তখন আপনার হাতে যদি স্মার্টফোন থাকে। সেক্ষেত্রে সাপের ছবিটি তুলে নিয়ে যেতে পারেন। এভাবে সাপ কে চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া যায়। আর অবশ্যই ক্ষতস্থানকে পরিষ্কার করতে হবে। যতক্ষণ না হাসপাতালে নেওয়া যায়।
সাপে কামড়ানো জায়গা নিচের দিকে রাখতে হবে
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা হচ্ছে। যখন সাপে কামড়াবে সে সময় থেকে ক্ষত স্থানকে নিচের দিকে রাখতে হবে। তখন অপরের দিকে উঠানো যাবে না। এক্ষেত্রে বিষ নিচের দিকে থাকবে। ক্ষতস্থান যদি উপেরর দিকে থাকে। তাহলে ২০ উপরের দিকে উঠতে সাহায্য করবে। এজন্য ক্ষতস্থানের উপরে এবং নিচে টাইট করে বা শক্তভাবে বেঁধে রেখে, যত সম্ভব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিওয়া উচিত।
আঘাত বা ক্ষতস্থান কাটা যাবে না
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসায় স্থানটিকে কাঁটবেন না। যদি অজান্তে এই জায়গাটি কেটে ফেলেন তাহলে রক্তক্ষরণ বেশি হবে। রোগীর প্রাণনাশের আশঙ্কা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। তাই আমাদের উচিত জেনে বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।
ব্যান্ডেজ করা বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে, ঐস্থান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যতটুকু সম্ভব ব্যান্ডেজ করতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে উপরে নিচে মৃত শক্ত ভাবে বেঁধে রাখুন, ডাক্তারের নিকটবর্তী হোন। যেন একবারে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ না হয়ে যায়। হৃদপিন্ডের দিকে যেন রক্ত চলাচল করে। এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি সম্ভব হয় তাড়াতাড়ি করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জানুন
আটকানো গয়না বা টাইট কাপড় খুলুন
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসায়, যদি কোন ব্যক্তিকে সাপে কামড়ায়। সে অবস্থায়
টাইট কোন জামা কাপড় পরা থাকে, কাপড়গুলো দ্রুত চেঞ্জ করুন এর বদলে ডিলাঢালা
কাপড় পরিয়ে নিন। যদি শরীরে কোন গহনা থাকে সেগুলো খুলে নিন।
হাটা বা চলাফেরা বন্ধ করুন
সাপে কামড়ানোর আরেকটি প্রাথমিক চিকিৎসা হলো। যখন আপনাকে সাপে কামড় দিবে, সাথে
সাথে আপনি ওই স্থানটিকে নিচু করে বসে পড়ুন। কখনোই চলাফেরা করার চেষ্টা করবেন না।
এতে করে বিষ ছড়িয়ে যেতে পারে। এজন্য চলাফেরা করলেও খুব সাবধানে করতে হবে।
আক্রান্ত জায়গা যেন চলাফেরায় অতিরিক্ত নাড়াচড়া না করে। এদিকে খেয়াল রাখতে
হবে। খুব সাবধানের সাথে আক্রান্ত কৃত ব্যক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে ডাক্তারের
নিকটবর্তী হতে হবে ।
অ্যাসিড জাতীয় খাবার নিষিদ্ধ
সাপে কামড়ালে, পানীয়, চা, কফি বা ঘরোয়া টোটকা খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন ।রোগীকে সম্পূর্ণ শান্ত রাখুন এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে
যান।
যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিন
সাপে কামড়ানোর সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। বিষ নিরাময়ের টিকা দিন। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আরো পড়ুনঃরক্তমাশায় রোগের খাবারের ২০টি তালিকা সমূহের বিবরণী
প্রাথমিক চিকিৎসায় যা যা নিষেধ
পুরোপুরিভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ করা যাবে না। কারণ শরীরের হৃদপিন্ডের সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। তাই সব দিকে খেয়াল রেখে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
- ক্ষতস্থান কাটবেন না,
- মুখ দিয়ে বিষ চুষবেন না,
- বরফ দেবেন না
- এবং খুব শক্ত করে বাঁধন দেবেন না
হাসপাতালে নেয়ার সময় যা করবেন
টাকা পয়সা সঙ্গে নিন,দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করুন। রোগী পরিষ্কার জামা
কাপড় সঙ্গে নিন।
সাপে কামড়ানোর অবস্থায় চিকিৎসা
চিকিৎসকের ব্যাপারে অগ্রিম খোঁজখবর রাখুন।
সাপে কামড়ানোর সাধারণ লক্ষণ সমূহ
- কামড়ানো চিহ্নিত করা
- তীব্র ব্যথা ও ফুলে যাওয়া
- রক্তপাত বা কালচে ও বেগুনি দাগ
- চোখে ঝাপসা দেখা এবং মাথা ঘুরায়
- বমি বমি ভাব হবে
- শ্বাসকষ্ট
- পেশির দুর্বলতা ও প্রত্যাঘাত পক্ষাঘাত
- হৃদপিন্ডের হার্টবিটউঠানামা করে
- অত্যাধিক ঘাম ও লালচা প্রসাব
আরো পড়ুনঃ চুলের যত্নে কালোকেশীর ব্যবহার বা কেশুতি পাতার ব্যবহারের নিয়ম
যে সাপের বিষ থাকে না
ঢোড়া সাপঃ এসবের কোন বিষ থাকে না।
লাউডগা সাপঃএ সাপের কোন বিষ থাকে না।
ধূসর কৃষ্ণ সাগর সাপঃ এই সাপের রং ধূসর কালো মত কিন্তু এসবের কোন বিষ নেই কামড়ালেও কোন সমস্যা হবে না। এগুলো মূলত লম্বা ও কালচে রঙের হয় ফসলের জমির ইঁদুর খেয়ে কৃষ্ণ সাগর সাপ উপকার করে। এছাড়াও সবুজ ফনি মনসা সাপ, বনফোড়া সাপ ,লাল ধোড়া সাপ,জলফোড়া সাপ ইত্যাদী এগুলো সাপের কোন বিষ নেই। এসব সাপ দেখে আত্নংক তৈরি না করা।
উপসংহার
সাপে কামড়ানোর প্রাথমিক ঘরোয়া চিকিৎসায় রোগী অর্ধেকটায় সুস্থ হয়ে যায়। যদি তার সঠিক ব্যবস্থা করা যায়। প্রথমে আপনাকে কামড়ানো জায়গায়পরিষ্কার করে শান্তভাবে বসে রাখতে হবে। ক্ষতস্থান টি নিচের দিকে রাখতে হবে। এবং উপরের দিকে হালকা শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। এভাবে ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিলে রোগীর বিষাক্ত আশঙ্কা থেকে বেঁচে যেতে পারে। সঠিক সচেতনতা এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই পারে একটি অমূল্য জীবন বাঁচাতে।

.webp)
আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url