কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন: দ্রুত লোন পাওয়ার নিয়ম

 কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন, দ্রুত লোন পাওয়ার নিয়ম, আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্টস, সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে, আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

কর্মসংস্থান-ব্যাংক-লোন

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন ও দ্রুত লোন পাওয়ার প্রসেসিং গুলো আছে। কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন,  লোন পাস করতে কী পরিমাণ এমাউন্ট দরকার হয়। 

পেজ সূচিপত্রঃ কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন: দ্রুত লোন পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানুন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদনের নিয়ম সম্পর্কে, আমরা অনেকেই জানিনা। কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আগ্রহী সদস্যগণের যাবতীয় ডকুমেন্টস  জমা দিন। শর্ত হলো আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য যুবকদের ঋণ প্রদান। এব্যাংক জামানত বিহীন স্বল্প সুদে লোন দেয়, বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রথমে জামানত বিহীন সর্বোচ্চ  ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দেয়।

বাংলাদেশের প্রায় ৩ কোটি বেকার যুবক সংস্থার আওতাধীন। যাদেরকে সরকার স্বাবলম্বী করার জন্য বিনা জামানতে ঋণ প্রদান করছেন। এজন্য যে শুধুমাত্র দেশের বোঝা না হয়ে, একটি আয়ের উৎস তৈরি করুন। বর্তমান সরকারকে অনেক টাকা, এই প্রকল্পে ঘাটতি দিতে হচ্ছে। আপনি যদি লোন পাস করতে চান, তাহলে আপনার বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে। 

সরকার শুধুমাত্র দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য জামানতবিহীন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা লোন প্রদান করছে। এ সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই কর্মসংস্থান ব্যাংক চালু করেছে। বিভিন্ন ডকুমেন্টের উপর নির্ভর করে,  এই লোন প্রদান করা হয়।  তো চলুন কি কি ডকুমেন্টস এর উপর নির্ভর করে লোন দেওয়া হয়। নিয়ম কানুন জেনে নেওয়া যাক।

কর্মসংস্থান ব্যাংক  আবেদনে দ্রুত লোন পাওয়ার নিয়ম

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন ও দ্রুত লোন পাওয়ার যে নিয়ম কানুন গুলো আছে। মাননীয় সরকার এগুলোর উপর ভর্তুকি প্রদান করে। শুধুমাত্র কিছু নিয়মাবলির উপরে নির্ভর করে জামানত বিহীন লোন প্রদান করছে। তাই চলুন  কি কি নিয়ম মেনে সরকারের লোন প্রদান করে জেনে নিই।

আরও পড়ুনঃ বিকাশ টু ব্যাংক টাকা উত্তোলনের সহজ উপায় ও তথ্য

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা সমূহ

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোনের আবেদন করতে হলে বা লোন  উত্তোলন করার  জন্য প্রথমে যে বিষয়টি বলা হয়েছে। সেটা হলো যোগ্যতার ক্ষেত্রে বয়সের অনুলিপি।

বয়সঃ 

অবশ্যই ১৮ থেকে ৪৫ বছরের হতে হবে। তাহলে লোন পেতে সরকার অনুমতি দিবে।

জাতীয়তাঃ

জাতীয়তার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেকোনো নাগরিককে বাংলাদেশের স্থায়ী এবং বৈধ নাগরিক হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কর্মসংস্থান ব্যাংকে লোনের আবেদন করতে পারবে, ও লোন গ্রহণ করতে পারবে।

বাসস্থানঃ

 কর্মসংস্থানের ব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লোন গ্রহণের নিয়ম হচ্ছে। অবশ্যই ওই ব্যক্তিকে লোন গ্রহণ করতে হলে শাখার কার্যকর এলাকার নিকটবর্তী বাসিন্দা হতে হবে। ঋণ গ্রহিতার নামে রেজিস্ট্রি  ফি তার দলিল বা যেকোনো বড় ধরনের ডকুমেন্টস প্রদান করতে হবে। বেশি লোনের ক্ষেত্রে কোন জামানতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

 শিক্ষাগত যোগ্যতা কোন সংস্থান ব্যাংক সেরকম ভাবে বাধা বিপত্তি নেই। তবে সর্বনিম্ন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাস লেখাপড়া জানতে হবে।

জামিনদারঃ কর্মসংস্থান ব্যাংকের জন্য কোন ব্যক্তি যদি লোনের আবেদন করে। তার ব্লাড রিলেটেড জামিনদার লাগবে। যার লোন পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। যদি ব্যাংক কর্মকর্তার নিকট পরিশোধ করতে সক্ষম মনে হয়। সে ক্ষেত্রে লোন গ্রহণ করতে পারবেন।

ঋণ খেলাপিঃ

সরকারি কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ গ্রহণের পূর্বেই ঋণ খেলাপির করা যাবেনা। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ব্যাংকের কর্মচারীরা লোন গ্রহণে বাধা প্রদান করবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ

সরকারি কর্মসংস্থান ব্যাংকে লোন আবেদনের জন্য দূরত্ব লোন পাওয়ার,  আপনি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে  আবেদন করবেন। এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্টগুলো চলুন নিচে জেনে নেওয়া যাক।

  1. জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি
  2. পাসপোর্ট সাইজের বর্তমান (এক মাসের মধ্যে )তোলার রঙিন ছবি
  3. নাগরিকত্ব সনদপত্র সত্যায়িত কপি
  4. শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদের ফটোকপি
  5. প্রশিক্ষণ পত্রের ফটোকপি যদি থাকে
  6. এছাড়া জামানতদের ফটোকপি লাগবে
  7. জামিনদারের সম্পূর্ণ ডিটেলস জমা দিতে হবে

আরও জানুনঃ আইফোনের জনপ্রিয় মডেল প্রাইজ মানি ইন বাংলাদেশ 

কর্মসংস্থান ব্যাংকের লোন য় আবেদন প্রক্রিয়া ও দ্রুত লোন পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার করা হয়েছে। এখন কর্মসংস্থান ব্যাংকে আবেদন করতে কি কি প্রক্রিয়ার অবলম্বন করতে হবে। এ বিষয়টি জানবো।

  • প্রথমেঃ ঋণ গ্রহিতা তার নিকটস্থ কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এরপরে উপজেলা শাখায় একটা আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
  • দ্বিতীয়তঃ ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ফরম গ্রহণ করতে হবে। এরপর সঠিকভাবে ফরমটি পূরণ করে জমা দিতে হবে।
  • তৃতীয়তঃ উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। অবশ্যই ফর্ম এর সাথে কাগজপত্র গুলো সংযুক্তকরণ করতে হবে।
  • চতুর্থঃ আবেদন ফরম সংযুক্ত করে, কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দিন।
  • পঞ্চমঃব্যাংক কর্তৃক পর্যালোচনা করে। আবেদনের ঋণ গুলো মনজুরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

কর্মসংস্থান-ব্যাংক-লোন

কর্মসংস্থান ব্যাংকের সুদের হার ও পরিষদের নিয়ম

সুদের হারঃ

 কর্মসংস্থান ব্যাংকের সরল সুদে ঋণ গ্রহণ করা যায়। এই ব্যাংকের সুদের হার সাধারণভাবে ৮% গ্রহণ করা হয়। অল্প লোনের ক্ষেত্রে। বেশি লোনের ক্ষেত্রেও একই পার্সেন্টেজ দিতে হবে।

পরিষদের মেয়াদঃ 

কর্মসংস্থান ব্যাংক আবেদন ফরমে পূরণে কতদিন বা কত তারিখের লোন নেওয়া যায়। কত তারিখে পরিশোধ করা লাগবে, এবিষয়টি উল্লেখ করে দেয়। সম্পূর্ণ লোন পরিশোধ করবেন, এক বছর মেয়াদে। যেমন স্বল্প লোনের ক্ষেত্রে। বেশি লোনের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ দেয়া হয়। যা প্রকল্পের ধারণএর ওপর নির্ভর করে।

কিস্তির গ্রহনের নিয়মঃ

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদন ও দ্রুত লোন পাওয়ার জন্য যে নিয়ম আছে। সেটি হচ্ছে মাসিক পরিশোধ করা যেতে পারে। বা দুই মাসিক সিস্টেমে পরিষদ করা যেতে পারেন। এবং দুই মাসিক বা বার্ষিক খিস্তি হিসেবে পরিষদ করা যেতে পারে।

আরও দেখুনঃ গুগল পে অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম সাইন আপ ভেরিফিকেশন ও ব্যবহারের সম্পূর্ণ গাইড 

অনলাইনে লোনের আবেদন প্রক্রিয়া

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদনের যে প্রক্রিয়া আছে সেটি অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। প্রয়োজন শুধু ইন্টারনেট। আজকের এই আর্টিকেলে নেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যাংক থেকে লোন প্রদান করে থাকে।  এবং আর্থিক উন্নয়নে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে। অনলাইনের মাধ্যমে লোনের যাবতীয় তথ্য জানতে চাওয়া হবে। তথ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সঠিক দিতে হবে। এবং কত লোন নিতে চাচ্ছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য প্রদান করুন। আবেদনের ফরম পূরণ করার পূর্বে আর একবার ভালো করে পড়ে নিবেন। অনলাইনে  আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে।

যেসব খাতে লোনের প্রদান করা হয়

  1. বাণিজ্যিক খাদ
  2. সেবা খাত
  3. যানবহন বা পরিবহন
  4. প্রাণিসম্পদ খাত 
  5. ক্ষুদ্র কুটির শিল্পঘাত
  6. মৎস্য খাত
  7. শিল্প খাত
  8. অন্যান্য প্রকল্প খাত।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা কোথায় 

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন আবেদনের নিয়ম হলো। উদ্দেশ্য লোন গ্রহণ করে, নিজেকে স্বাবলম্বী তৈরি করা। তবে ব্যাংকের শাখা কোথায় আছে, এ বিষয়ে সঠিক ধারণা অনলাইনে গুগল ম্যাপ থেকে জেনে নিতে পারেন। আপনাকে যে শর্ত মানতে হবে। আপনি কোন ব্যাংকের থেকে লোন নেন বা কোন ক্ষেত্রে লোন লাগবে এসব বিষয়গুলো সঠিক তথ্য দিবেন। আপনার নিজ এলাকায় উপজেলায় এ ব্যাংকের শাখা আছে। মোট দেশব্যাপী ব্যাংকের সংখ্যা ৩৩ টি আঞ্চলিক কার্যালয় পাবেন। ব্যাংকের স্থায়ী ঠিকানা পেতে উপজেলাতে কিছু সময় দিয়ে খোঁজ নিলে পাবেন।

কর্মসংস্থান-ব্যাংক-লোন

আরও পড়ুনঃ Google এডসেন্স থেকে কত টাকা আয় করা যায় 

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন প্রদান

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন প্রদান করা হয়। একমাত্র কারণ হচ্ছে, পুনরায় পুনর্বাসনের জন্য। এদেরকে ঋণ প্রদান করা হয়। আপনি যদি প্রবাসী চাকরি ফেরত, চাকরির জন্য বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করতে চান। সেক্ষেত্রে সরকার আপনাকে লোন দিতে বাধ্য। আপনি এ লোন স্কিম জন্যই উপযুক্ত।

প্রবাস কর্মীদের জন্য ঋণ প্রদানের অন্যতম, একটি সুবিধা জনক ব্যাংক হল কর্মসংস্থান ব্যাংক। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করার ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন। সেগুলো হলো

বিদেশে যাওয়ার কাগজপত্র চুক্তিপত্র আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। অবশ্য ঋণ গ্রহীতাকে ১৮ বছর থেকে ৪৫ বছর হতে হবে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে, যে এজেন্সির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তার কপি জমা দিয়ে, সর্বোচ্চ তিন লাখ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। দেশ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের পরিচিতি

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন প্রদানে যোগাযোগ করা যায়। সেগুলো হল ফোন নাম্বার তাদের হট লাইন নাম্বার দেওয়া হল যেমনঃ ১৬২৪৭

অফিসের নাম্বার+ ৮৮০২৪১০২৪০৩১

এবং ঠিকানা হচ্ছে info@ kb.gov.bd

অফিসারের নাম্বার নিজ উপজেলা কর্মরত ঠিকানায় পেয়ে যাবেন গুগল সার্চে

আমাদের শেষ মন্তব্য

কর্মসংস্থান ব্যাংক আবেদন লোনের যেসব নিয়ম-নীতি আছে। তার পরিপূর্ণভাবে তথ্য দেওয়া হয়েছে।  আপনারা যারা এ কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান। তার ওপর আর্টিকেলটি ভালো করে মনোযোগ সহ পড়ুন। এবং সফল উদ্যোক্তা তৈরি হয়ে, দেশের উন্নয়নে নিজেকে একধাপ এগিয়ে নিন। এবং দেশবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করুন। যারা টাকার অভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেননি। তাদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক অতি সহজেই লোন দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থেকে থাকে। তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা আপনাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেহ উপকৃত হবে।

সুতরাং বলা যায় কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন প্রদানের এবং আবেদনের যে ফর্মালিটি আছে।   সেগুলো পালন করার মাধ্যমে লোন নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলুন। যদি কোন প্রবাসী বা স্থায়ী নাগরিক ভাইরা এই আর্টিকেল থেকে উপকৃত হন। তাহলে অন্য কাউকে শেয়ার করে দিয়ে আরেকটি ভাইয়ের উপকার করুন। এবং এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল যাতে সহজে বুঝতে পারেন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে, আজকের মত এখানে শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url