সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী ভ্রমণ গাইড টিকিট মূল্য
প্রিয় পাঠক, এই আর্টিকেলে ২০২৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী যাতায়াতের রুট, টিকিট মূল্য, সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড, এক নজরে জানুন।
২০১২ সালে সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে তৈরি করা হয়। কৃত্রিম উপায়ে দুইভাই ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম প্রায় ৪০ হেক্টর জায়গা জুড়ে, জনপ্রিয় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট গড়ে তুলেন।
পেজ সূচিপত্রঃ সাফিনা পার্ক রাজশাহী:গোদাগাড়ী ভ্রমণ গাইড টিকিট মূল্য খরচ সম্পর্কে জানতে পড়ুন।
- সাফিনা পার্ক রাজশাহী
- শাফিনা পার্কের মূল আকর্ষণ
- সাফিনা পার্ক যাওয়ার সেরা সময়
- সাফিনা পার্ক কিভাবে যাবেন
- শাফিনা পার্ক ভ্রমণে কোথায় থাকবেন
- সাফিনা পার্ক ভ্রমণ কোথায় খাবেন
- সাফিনা পার্ক ভ্রমণে সঙ্গে যা নিবেন
- জরুরি সর্তকতা অবলম্বন
- জনপ্রতি এক রাত দুই দিনের খরচ
- সাফিনা পার্কের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
- আমাদের শেষ কথা
সাফিনা পার্ক রাজশাহী
সাফিনা পার্ক(Safina park) রাজশাহী জেলার একটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। সাফিনা পার্ক স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বন বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকা। বর্তমানে এটি একটি জনসাধারণের পরিবেশবান্ধব বিনোদন পার্ক। বর্তমানে সাফিনা পার্কটি কে রাজশাহীর সবুজ স্বর্গ বলা হয়। এপার্কের ভেতরে নানান জাতের ফুল ও ফলের গাছ সহ বিভিন্ন ঔষধি গাছ আছে। এখানে পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দনীয় কৃত্রিম উপায়ে লেক সহ বিভিন্ন পশুপাখির ভাস্কার্য স্থাপনা দেখতে পাবেন। এপার্কে শিশুদের জন্য নাগরদোলা দোলনা ট্রেন থ্রিডি সিনেমার পিকনিক জোন এবং স্মরণিকা জোন সহ অফিসিয়ালি অনুষ্ঠানের জন্য কনফারেন্স রুম পাবেন। এরুমে মঞ্চের ব্যবস্থা ও আছে। তাছাড়াও বিশাল জায়গা জুড়ে দুইটি পিকনিক স্পটের ব্যবস্থা আছে।
সাফিনা পার্কে দ্বিগুণ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে দুইটি লেক। এখানে নৌকা বাইচ করার সুবিধা আছে। অনুমতি সাপেক্ষে এ লেকে মাছ ধরতে পারবেন। সবুজ ঘাসের চাদর বিছানো বিশাল খোলা মাঠ।চারিদিক মৌসুমী ফুলের সমাহারে মুখরিত। প্রাকৃতিক ছোট নদী লেক ও পুকুর সহ। ছোট্ট ছোট্ট জায়গায় পিকনিক স্পট তৈরি করা আছে। এপার্কে পরিবার নিয়ে নিরাপদে এবং আরামদায়কভাবে পিকনিক করতে পারবেন। এক কথায় বলা যায় রোমাঞ্চকর পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য সেরা গন্তব্য।
সাফিনা পার্ক রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় সিএনজি বাস কিংবা অটো রিক্সা গোদাগাড়ী জিরো পয়েন্ট যে কোন চালককে বললে সাফিনা পার্ক পৌঁছে দেবে। এই পার্কটি ব্যস্ততম শহর থেকে কোলাহলমুক্ত শান্ত স্নিগ্ধ নির্মল পরিবেশে গড়ে তোলা হয়।
শাফিনা পার্কের মূল আকর্ষণ
সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ীর মূল আকর্ষণ এবং দর্শনীয় স্থানগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিলাম। এ পার্কে আপনারা যা দেখবেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হলো। আসুন জেনে নেওয়া যাক
সাফিনা পার্কের গেটের সৌন্দর্য
সাফিনা পার্ক রাজশাহী গেটের সৌন্দর্য ও কারুকার্য এতটাই সুসজ্জিত যে যেকোনো পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দনীয় করে। একটি প্রাকৃতিক উপকরণ কাঠ পাথর আর লোহার কাজের মাধ্যমে দিয়ে তৈরি করা হয়। গেটের উপরে বড় অক্ষর দিয়ে লেখা সাফিনা পার্ক । যা দূর থেকে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। এই গেটটিপরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে রংবেরঙের ডিজাইনে করা হয়। এই গেটেরসবুজ ও কাঠবাদামের রং দিয়ে নকশা করা হয়।
আরো পড়ুনঃ মনিপার্ক ভেড়ামারা কুষ্টিয়া কিভাবে যাবেন ও খরচ
গেটের সঙ্গে ছোট্ট পিলার আছে যেখানে এলইডি লাইট বসানো আছে রাতের বেলা পরিষ্কার দেখা যায়। আধুনিক ও প্রাকৃতিক সংমিশ্রণে তৈরি এই গেট দর্শনার্থীদের স্বাগতমূলক অনুপ্রেরণা যোগায়।
মিনি গেম আউটডোর
সাফিনা পার্ক রাজশাহী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হল বন্ধুবান্ধবের খেলার জোন। যেমন বোলিং শ্রীট, face game, ছোটদের ঝুলন্ত ব্যালেন্স বা ক্লাইবিং সেট, এটা ছোটদের বিশেষ আকর্ষণের জন্য তৈরি করা। এই গেম গুলো যেকোনো দর্শনার্থীদের কাছে বাচ্চাদের আনন্দদায়ক বিনোদন কেন্দ্র।
বাহারি ফুলের বাগান
সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ীর মুল আকর্ষণ। এ পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য একপাশে বিশাল জায়গা জুড়ে ফুলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। বসন্তের আগমনে এই বাগানের ফুলগুলো অধীর আগ্রহে পর্যটকদের সাদর সম্ভাষণ জানাই। এখানে গ্লাডিওয়ালস জুঁই চামেলী বেলী জবা গোলাপ লাল টিউলিপ ফুলের সৌন্দর্যে পুরো জায়গা ঝলমল করে। দর্শনার্থীদের জন্য ফটোগ্রাফি করার জনপ্রিয় স্থান।
ছোট লেক ও পুকুর
সাফিনা পার্ক রাজশাহীর মনোমুগ্ধকর বিনোদন কেন্দ্র। পার্কের মূল কেন্দ্রের পাশে দুইটি নান্দনিক সৌন্দর্যের লেক আছে। এই লেকের শিশুদের নিয়ে নৌকা বাইচ, লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটি করা, রোমান্টিক দৃশ্য উপভোগ করা সুযোগ পাবেন। এ লেকের পানিতে স্থানীয় জলজ প্রাণী দেখা পাওয়া যায়।
ছায়াযুক্ত পথ
রাজশাহী সাফিনা পার্কের মুল আকর্ষণ ছায়াযুক্ত পদাচারণ পথ। এ পথে হাটাহাটি করলে মনের গহীনে এক অন্যরকম প্রশান্তি যোগায়। বিশেষ করে দুপুরের রোদ্র আর বিকেলের কিরণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সঙ্গে পরিবার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর উপযুক্ত স্থান। পাশে সবুজ ঘাসের গালিচা বিছানো বিশাল মাঠ খোলা নীল আকাশ সবমিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। সন্ধ্যার সময় এ রাস্তায় হেঁটে গেলে দেখা মিলবে এলইডি লাইট সাজানো বিশেষ আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দনীয় সৌন্দর্য ।
পিকনিক জোন
সাফিনা পার্ক রাজশাহী ভ্রমনে পিকনিক স্পট চোখে পড়ার মতো সেরা স্থান। ছোট বড় বিভিন্ন গ্রুপের পিকনিক স্পট আছে। পর্যটকরা এখানে খাবার খেতে ঘরের বাইরে মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন। পরিবার-পরিজনের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক হিসেবে সুপরিকল্পিত একটি এলাকা।
প্রকৃতিক পর্যবেক্ষণ এলাকা
সাফিনা পার্ক রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হল, পাখি এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট একটি এলাকা। এটা বন বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সংরক্ষিত। বিশেষভাবে সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। যা শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্মরণিকা জোন
সাফিনা পার্ক রাজশাহী ইতিহাস ও পরিচয় বুঝাতে ছোট্ট প্রদর্শনী বোর্ড বসানো আছে। এখান থেকে এ পার্কের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বন অধিদপ্তর দ্বারা সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝানো হয়।
ভূতের বাড়ি
সাফিনা পার্কের ভূতের বাড়ি মূলত একটি হরর থিমযুক্ত বিনোদন কেন্দ্র । যা দর্শনার্থীদের রোমাঞ্চকর মজার অভিজ্ঞতা এনে দেয়। এটি বিশেষ করে তরুণ তরুণী বন্ধুবান্ধবদের গ্রুপের বেশ জনপ্রি... বাড়িতে বাইরের নকশা পুরনো ধাঁচের ভাঙ্গাচড়া প্রাসাদের মত ডিজাইন করা। গেটের সামনে কঙ্কালের নকশা। ভিতরে ঢুকলেই অল্প আলো ও ভৌতিক শব্দ তৈরি হয়। দেয়ালে পুরনো ছবি রহস্যময় ছায়া কৃত্রিম ধোঁয়া পরিবেশকে আরো রহস্যময় করে তোলে। রোমাঞ্চকর অ্যাডভান্সার মজার অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
আরো জানুনঃ রাজশাহী টু রহনপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানুন
ছবি তোলার সেরা স্থান
সাফিনা পার্ক মুল আকর্ষণ ফুল লেক নদী এবং সবুজ বনাঞ্চলের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় বেলা এবং সূর্যদের সময় ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। এখানে খেলাধুলা সহ শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও রাইড আছে। এই রাইড গুলোতে ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখা যায়।
সাফিনা পার্ক যাওয়ার সেরা সময়
সাফিনা পার্ক রাজশাহী ভ্রমণের সেরা সময় নির্ধারণ করা আছে, অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতলা আরামদায়ক থাকে। হাঁটাহাঁটি পিকনিক ও ফটোগ্রাফির জন্য ভালো। বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করা স্বচ্ছ আকাশ উপলব্ধি করা যায়। এছাড়াও বসন্তের আগমনে ফুল ফোটার সময় প্রকৃতি সৌন্দর্য নতুন রূপে সাজে।
দিনের সেরা সময় ভ্রমণ
সকাল ৮-১১ টা পরিবেশ শান্ত ভিড় কম থাকে। এসময় আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করা যায়।
বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে। যা সুন্দর সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।
সাফিনা পার্ক খোলার সময়সূচী
প্রতিদিন সকাল ৯ টায় খোলা হয়, এবং বন্ধ করা হয় সূর্যাস্তের পরে প্রায় সন্ধ্যা ছয়টা সময় সাপেক্ষে সন্ধ্যার সময়সূচি কর্তৃপক্ষ অনুযায়ী বদলানো হয়।
সপ্তাহে ৭ দিনে খোলা থাকে
এছাড়াও ঈদের দিন ও বিশেষ দিনে পরিবর্তন হয়, এপার্কে বিভিন্ন গাড়ির পার্কিং এর সুব্যবস্থা আছে। পার্কিংয়ের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।
মোটরসাইকেল= ২০ টাকা
অটোভাড়া= ৫০ টাকা
মাইক্রোবাস=১০০ টাকা
বাসভাড়া=৩০০ টাকা
বিভিন্ন রাইড এর জন্য বিভিন্ন ধরনের টিকিট মূল্য ক্রয় করতে হয়। এছাড়াও ফ্যামিলি স্টুডেন্ট ও প্যাকেজ মূল্য আছে।
২ থেকে ৪ জনের ৬০০ টাকা
৪ থেকে ১২ জনের ১২০০ টাকা
সাফিনা পার্কে প্রবেশ ফি
জনপ্রতি ৫০ টাকা প্রবেশ ফি পার্কের মধ্যে ঘুরে দেখার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন রাইড এর জন্য আলাদা খরচ বহন করতে হবে।জিরো থেকে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের কোন প্রবেশ ফি লাগেনা।
সাফিনা পার্ক কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মোট তিনটি রুটে সাফিনা পার্ক পৌঁছানো যায় । নিচে আপনাদের সুবিধার জন্য ধাপে ধাপে বর্ণনা দেওয়া হলো
বাসযোগে
ঢাকা - রাজশাহী
কল্যাণপুর আব্দুল্লাহপুর ও গাবতলী থেকে সরাসরি রাজশাহী রুটে বাস পাওয়া যায় ।নিচে বাসের নামের তালিকা তুলে ধরা হলো
হানিফ এন্টারপ্রাইজ
ন্যাশনাল ট্রাভেল
দেশ ট্রাভেল
এনা ট্রান্সপোর্ট
গ্রীন লাইন পরিবহন
ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘন্টা
ঢাকা থেকে রাজশাহীর দূরত্ব ২৭০ কিলোমিটার
নন এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি = ৬০০-৮০০ টাকা
এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি = ৯০০-১৪০০ টাকা
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য প্রায় এক ঘন্টা পর পর বাস পাবেন।
ট্রেনযোগে
ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সরাসরি রাজশাহী রেল স্টেশনে নিয়মিত কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে। নিচে এই ট্রেনের নাম গুলো তুলে ধরা হলো
ট্রেনের নাম
পদ্মা এক্সপ্রেস
সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস
ধুমকেতু এক্সপ্রেস
বনলতা এক্সপ্রেস
মধুমতি এক্সপ্রেস
আনুমানিক ট্রেনের দ্রুত ২৫৫ কিলোমিটার
যেতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা প্রায়
জনপ্রতি ট্রেনের ভাড়া ক্লাস ভেদে = ৪০৫-১৩৮৬ টাকা
আরো দেখুনঃ রাজশাহী টু জয়পুরহাট ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
আকাশ পথে
ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর পৌঁছাতে হবে
যে এয়ারগুলা চলাচল করে সেগুলো হল
বিমানবাংলা এয়ারলাইন্স
বাংলা এয়ারলাইন্স
নভো এয়ার
প্রতিদিনের একাধিক ফ্লাইট হয়ে থাকে
ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ৫০ মিনিট সময় লাগে
এয়ারপোর্ট রিপোর্ট সহজ যাবতীয় সময় ধরুন দুই থেকে তিন ঘন্টা।
শুধুমাত্র ঢাকা থেকে রাজশাহী আসতে ৩০০০ - ৬৫০০ টাকা লাগে
বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সাফিনা পার্ক যেকোনো চালককে বললে আপনাকে সাফিনা পৌঁছে দেবে ২০০ - ৪০০ টাকা মতো ভাড়া নিতে পারে। তবে গ্রুপে গেলে ভাড়া কম লাগবে
শাফিনা পার্ক ভ্রমণে কোথায় থাকবেন
সাফিনা পার্ক রাজশাহী ভ্রমণে চাইলে আপনি রাজশাহী শহরের মধ্যে থাকতে পারেন এখানে ভালো মানের আবাসিক হোটেল পাবেন। পার্কের আশেপাশে তেমন কোন থাকার জায়গা নেই। এজন্য শহরের মধ্যে থাকাই ভালো হবে
হোটেলের নাম
হোটেল এক্স রাজশাহীঃ থ্রি স্টার মানের হোটেল, এসি রুম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, ভাড়া আনুমান ৩০০০-৬০০০ টাকা।
ওয়ারিশান হোটেলঃ মাঝারি বাজেটের ভালো মানের হোটেল, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এসি রুম, ভাড়া ১৮০০-৩৫০০ টাকা।
হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালঃ বাজেট ফ্যামিলি একদিনের জন্য উপযুক্ত রুম ভাড়া ১২০০ - ২৫০০ টাকা।
হোটেল রয়েল রাজঃ প্রিমিয়াম সার্ভিস পরিবার কর্পোরেট টু এর জন্য ভালো এসি রুম। রুম ভাড়া ৪০০০ -৮০০০ টাকা। এখান থেকে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে শাফিন পার্ক পৌঁছে যাবেন।
এছাড়াও পার্কের আশেপাশে গেস্ট হাউস আছে সেখানে থাকতে পারেন। বাজেটের মধ্যে সহজে থাকা যায়।
সাফিনা পার্ক ভ্রমণ কোথায় খাবেন
সাফিনা পার্ক ভ্রমণে কোথায় খাবেন এ বিষয়ে সহজ দিকগুলো তুলে ধরলাম। আসুন নিচে জেনে নেওয়া যাক
হোটেলের নাম
গোদাগাড়ী এলাকায় লোকাল ফুড রেস্তোরা আছে সেখানে খেতে পারেন।
গোদাগাড়ী লোকাল ফুড স্টল
স্টেট ফুড সহ স্থানীয় রান্না করা খাবার পাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেস্টুরেন্ট।
রিভার ভিউ ডাইন ইনঃ নদীর ধারে হালকা খাবারের ব্যবস্থা
পিকনিক স্পটে খাওয়ার জন্য পিকনিক করে খাওয়ায় সবচেয়ে ভালো। আলাদা খরচের মধ্যে পড়া লাগে না।
রাজশাহী শহরে
শ্যামলী রেস্টুরেন্টঃ এখানে দেশি স্বাদের খাবার পাবেন।
রয়েল গার্ডেন রেস্টুরেন্টঃ পরিবার উপযোগী পর্যটক এখানে কমফোর্টেবল খেতে পারবেন।
সেজলিং হাউজঃ খাবারের জন্য সেরা স্থান। দ্রুত খাবার পাওয়া যায়।
এছাড়া শহরের পাশে সিটি হাটের গরুর মাংস রুটি রাজশাহীর বিখ্যাত খাবার চাইলেও খেতে পারেন এই খাবারটি পরিবেশের মানসম্মত খাবারের সুব্যবস্থা আছে।
শহরের মধ্যে খেলে জনপ্রতি ৪০০-৬০০ টাকা বাজেটে ধরুন।
শহরের বাইরে খেলে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ।
এছাড়া স্থানীয় তৃপ্তি হোটেল রয়েছে এখানে গরুর মাংস ভাত মুরগি গর্ত ভাজি খেতে পারেন। জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা লাগবে।
আপনি চাইলে পার্কের কাছে গোদাগাড়ি মোড়ের কাছে তৈমুর বিসমিল্লাহ রহমাতুল্লাহ হোটেল আছে সেখানে দেশি খাবার খেতে পারেন। জনপ্রতি দুপুরের খাবারে জন্য ১৫০-২০০ টাকারমধ্যে খেতে পারবেন।
সাফিনা পার্ক ভ্রমণে সঙ্গে যা নিবেন
সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী ভ্রমণে সঙ্গে কি কি নিবেন। তার একটি তালিকা নিচে স্পষ্টভাবে সাজিয়ে দিলাম। আসুন জেনে নেওয়া যাক
- আরামদায়ক কাপড়
- হালকা জ্যাকেট বা হুডি
- আরামদায়ক জুতা
- সানগ্লাস টুপি
- রেনকোট
- হ্যান্ড স্যানিটাইজার
- মাক্স
- স্কিন লোশন
- প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ পত্র
- শুকনো খাবার বোতল জাত পানি
- উন্নত মানের ক্যামেরা
- মোবাইল ফোন ও চার্জার সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক
- সম্ভব হলে ড্রোন
- সেলফি স্টিক
- হেডফোন
- নগদ টাকা
- এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ইত্যাদি।
জরুরি সর্তকতা অবলম্বন
সাফিনা পার্ক ভ্রমণের কিছু জরুরী সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আসুন কি কি জরুরী সতর্কতা অবলম্বন করা যায় জেনে নিই।
- নিজের মূল্যবান জিনিসগুলা সঙ্গে রাখুন
- যেমন নগদ টাকা পাসপোর্ট মোবাইল পার্টস ইত্যাদি
- শিশুদের সঙ্গে হাত ধরে ঘুরবেন
- অন্ধকার আগে ফেরার চেষ্টা করুন
- পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন
- স্থানীয়দের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন
- টিকিটের দাম করে রাইড করুন
- অচেনা মানুষের খাবার খাবেন না
- একা একা কোথাও ঘুরতে যাবেন না
- নিরাপত্তা জন্য অফিসের নাম্বার নিয়ে রাখুন
- ছবি তোলার সময় ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়াবেন না
জনপ্রতি এক রাত দুই দিনের খরচ বর্ণনা দাও
ঢাকা থেকে রাজশাহী
যাতায়াত যাওয়া আসা = ১৮০০-২৪০০ টাকা
প্রবেশ ফি = ৫০ টাকা
থাকা = ৫০০-১০০০ টাকা
দুপুরের খাবার = ৬০০-৮০০ টাকা
সকালের নাস্তা = ২০০-৪০০ টাকা
সর্বমোট খরচ জনপ্রতি = ৩৩৫০-৪৩৫০টাকা
বাজেটের মধ্যে খরচ ধরুন
বাজেট টিপস ২০০০-৩০০০ হাজার টাকা
মাঝারি মানের টিপস
৩৫০০-৫০০০ হাজার টাকা
প্রিমিয়াম টিপস
৬০০০-৮০০০ হাজার টাকা
সাফিনা পার্কের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
সাফিনা পার্কে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানের নাম সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো । আসুন জেনে নেওয়া যাক।
বরেন্দ্র জাদুঘর
শহীদ জিয়ার শিশু পার্ক
ঢাকা মসজিদ
গোদাগাড়ী নদীর পার্কঃ পার্কের কাছাকাছি নিরিবিলি পরিবেশ। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করার সেরা স্থান।
রাজশাহী চীনা ব্রিজঃ স্থাপিতভাবে আকর্ষণীয় ছোট সেতু পার্ক থেকে ১০-১৫ মিনিট দূরে অবস্থিত।
প্রেমতলী ফরেস্টঃ পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নিরিবিলি পরিবেশ ও আকর্ষণীয় স্থান।
রাজশাহী চিড়িয়াখানাঃ রাজশাহী বিভাগীয় চিড়িয়াখানা ২০ কিলোমিটার দূরে শহরের মধ্যে অবস্থিত।
রাজশাহী চিনিকলঃ সাফিনা পার্ক থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে পাবেন।
ক্লিক করুনঃকুষ্টিয়া টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানুন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব
প্রশ্নঃ সাফিনা পার্ক কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ রাজশাহী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ সাফিনা পার্ক ভ্রমণে গাইড এর প্রয়োজন আছে কি?
উত্তরঃ না নেই। কারণ এটা সোজা রাস্তা হাঁটার কোন প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্নঃ জনপ্রতি এক রাত দুই দিনের খরচ কত
উত্তরঃ জনপ্রতি ৩৫০০-৪৫০০ টাকা
প্রশ্নঃ জরুরি সতর্কতা কি কি?
উত্তরঃ মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা, শিশুদের নজরে রাখা, হ্যান্ডসামেটাইজার ব্যবহার করা, পার্কের নির্দেশ মেনে চলা।
প্রশ্নঃ যাওয়ার সেরা সময় কখন?
উত্তরঃ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস।
আমাদের শেষ কথা
আজকের আর্টিকেলে সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী ভ্রমণ গাইড টিকিট মূল্য খরচ সম্পর্কে আমরা সঠিক তথ্য তুলে ধরলাম। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন। কোথায় যাবেন, কিভাবে থাকবেন, কোথায় খাবেন, জনপ্রতি কত খরচ, আপনাদের সুবিধার্থে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলাম।এরপরও যদি কোন সমস্যা থাকে। তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমরা আপনাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে উপকৃত হবো।
আর হ্যাঁ, আমাদের এই সাফিনা পার্ক রাজশাহী গোদাগাড়ী আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনাদের আত্মীয়-স্বজনের নিকট শেয়ার করে দিবেন। আর আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো দিয়ে সঙ্গে থাকুন। কারণ আমরা এই ওয়েবসাইটে নতুন নতুন আর্টিকেল প্রতিদিন প্রকাশ করে থাকি। এতক্ষণ আমাদের আর্টিকেলের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের মত এখানে শেষ করছি।

.webp)
.webp)
আপনি সফল ব্লগে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url